সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেতে পারে আলিগড়

রক্তিম দাশ, কলকাতা
০৮ নভেম্বর ২০২৪, ২৩:১৫আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ২৩:১৫

উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ভারতের উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানে’র স্বীকৃতি পেতে পারে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ ১৯৬৭ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়কে খারিজ করে দিয়েছে। তবে এই রায়ে এখনই সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের তকমা পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়টি। এর জন্য তিন বিচারপতির আলাদা একটি বেঞ্চ গঠিত হবে। সেই বেঞ্চই যাবতীয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে যে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি কি না।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে ৪:৩ সংখ্য়াগরিষ্ঠতায় রায় দিয়ে ১৯৬৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের আজিজ বাসার মামলার রায় খারিজ করে দেওয়া হয়। ১৯৬৭ সালে একটি রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য ছিল, কোনও প্রতিষ্ঠান সংবিধির মাধ্যমে সংখ্যালঘু তকমা পেতে পারে না।

এ দিন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পাদরিওয়াল, বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি সঞ্জীব খান্না সুপ্রিম কোর্টের পূর্ব রায় খারিজ করে দেওয়ার সপক্ষে রায় দেন।

অন্যদিকে, বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি এসসি শর্মা এর বিপক্ষে রায় দেন।

সাংবিধানিক বেঞ্চের মধ্যে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতি মত দেন যে, কোনও আইন বা বিধানের মাধ্যমে গঠিত বলে কোনও প্রতিষ্ঠান সংখ্যালঘু স্বীকৃতি হারায় না। বিচারপতির বেঞ্চের তরফে বলা হয়, আজিজ বাসার মামলার রায় খারিজ করা হচ্ছে। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু স্বীকৃতি থাকবে কি না, তা বর্তমান মামলার ওপরে ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এ দিন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন যে, আদালতকে দেখতে হবে কে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন? এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভাবনার নেপথ্যে থকে আছেন? যদি দেখা যায় এই প্রতিষ্ঠান নেপথ্যে সংখ্যালঘু কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ছিলেন, তাহলে ৩০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই প্রতিষ্ঠান সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেতে পারে।

১৯৬৭ সালের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করতেই এবার তিন বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলা পাঠালেন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়।

প্রসঙ্গত, এই মামলার শুনানি পর্বে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়কে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের তকমা দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তাদের মতে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। সেখানে সবার সমান অধিকার থাকা উচিত। শুধু একটি সম্প্রদায়ের জন্য এই প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত নয়।

সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেলে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে। ছাত্র, অধ্যাপকের পদে অন্যান্য তপশিলি, অনগ্রসর শ্রেণির জন্য কোটা সংরক্ষণ প্রযোজ্য হবে না।

 

/এএ/
সম্পর্কিত
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের