এই মুহুর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আবারও সংলাপ শুরু করার বিষয়ে কথা বলার কোনও ভিত্তি খুজে পাচ্ছে না রাশিয়া। শনিবার (৯ নভেম্বর) রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
ইন্টারফ্যাক্স জানায়, সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, সামরিক ও রাজনৈতিক স্তরে অচল মিডিয়ার মাধ্যমে মস্কো ও ওয়াশিংটন ‘ইউক্রেন নিয়ে সংকেত বিনিময় করছে।’
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের সংকট সমাধানে নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবগুলো শুনতে প্রস্তুত রাশিয়া। তবে এই সংকটের সহজ কোনও সমাধান নেই।
ইন্টারফ্যাক্সকে রিয়াবকভ জানান, ‘এই অঞ্চলের দেশগুলো প্রস্তাবিত যে কোনও ধারণার প্রতি আমরা অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দায়িত্বশীল ও মনোযোগী।’
মার্কিন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
জুলাইয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় এক বন্দুকধারীর হাতে হত্যাচেষ্টার শিকার হন ট্রাম্প। তখন যে সাহসিকতার পরিচয় ট্রাম্প দিয়েছেন তার প্রশংসা করেন পুতিন বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপের জন্য প্রস্তুত মস্কো।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের অবসানের চেষ্টা নিয়ে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছেন তা মনোযোগের দাবি রাখে।
এনবিসিকে ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর পুতিনের সঙ্গে কথা বলেননি তিনি। তবে ‘আমি মনে করি, আমরা কথা বলব।’
রিয়াবকভ বলেন, রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হলে কিংবা ইউক্রেন নিয়ে ওয়াশিংটন যদি উত্তেজনা বাড়ায় তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি এখনও রয়েছে।
ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, এ সময় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি রাশিয়ার নীতি পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে রিয়াবকভ বলেন, পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক ও ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সংকট দেখা দিলে, দেশটি ‘পারমাণবিক বিকল্পের দিকে যাওয়ার’ কথা বিবেচনা করবে।
ইন্টারফ্যাক্সকে রিয়াবকভ বলেন, ‘এই প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করা হবে। সর্বোচ্চ কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট নিঃসন্দেহে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন। যার অর্থ, এই ক্ষেত্রে আমাদের কার্যক্রমের ধারণাগত ভিত্তির উন্নতি হবে।’
সেপ্টেম্বরে পশ্চিমকে সতর্ক করে পুতিন বলেছিলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার বিষয়ক পরিবর্তিত নীতির অধীনে, রাশিয়ায় যদি প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আঘাত করা হয় এবং পারমাণবিক শক্তিধর কোনও দেশের সমর্থনে যদি কোনও আক্রমণ করা হয়, সেটিকে যৌথ আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করবে রুশ কর্তৃপক্ষ। এমনকি, প্রয়োজনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে দেশটি।








