তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের মার্কিন সফর নিয়ে চীনের সামরিক হুমকি দু’দেশের সম্পর্ককে আরও দূরে ঠেলে দেবে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) এমন মন্তব্য করেছেন তাইপের শীর্ষ চীন নীতিনির্ধারক চিউ চুই-চেং। এই সফরকে ঘিরে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে বলে সতর্ক করেছে প্রতিবেশী চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া, যা দুই দেশের ভবিষ্যত সম্পর্কের জন্য বিপরীতমুখী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজ ভূখণ্ডের অংশ বলে মনে করে চীন। তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে দেশটি। চলতি বছর দুই দফা যুদ্ধ মহড়া করেছে বেইজিং। নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, এই সফরের প্রতিক্রিয়ায় চলতি সপ্তাহান্তে তাইওয়ানের চারপাশে নতুন করে যুদ্ধের মহড়ার আয়োজন করতে পারেচীন ।
তাইপেইতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের মন্ত্রী চিউ চুই-চেং বলেছেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বকে সুসংহত করার জন্য লাইয়ের এই সফরে তাইওয়ানের জনগণের সমর্থন ছিল।
তিনি বলেছিলেন, ‘তবে চীনা কমিউনিস্টরা তাইওয়ানকে সামরিক আধিপত্যের হুমকি দেয়। আমার মনে হয়, আমাদের নাগরিকরা এতে একমত নয়।’
এ বিষয়ে সতর্ক করে মন্ত্রী চিউ বলেন, ‘এটি কেবল বিপরীতমুখী সম্পর্ককে আরও দূরে ঠেলে দেবে যা ভবিষ্যতে বন্ধনের জন্য সহায়ক হবে না।’
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত চীনের সামরিক মহড়া ও হুমকিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া।
বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে লাই ও তার সরকার। তাদের বাকি বিশ্বের সঙ্গে জড়িত থাকার অধিকার রয়েছে।
তাইপেইয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রশান্ত মহাসাগরের তিনটি দেশে সফরে বের হন প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সপ্তাহান্তে তার হাওয়াই সফরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন। বুধবার গুয়ামের মার্কিন অঞ্চলে লাইয়ের এক রাত অবস্থান করার কথা রয়েছে। দীর্ঘ সফরের অংশ হিসেবে সেখানে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রাবিরতি নিচ্ছেন তিনি।
হাওয়াইয়ে দুই দিনের সফরে সেখানকার গভর্নরের সঙ্গে দেখা করেছেন লাই। সেখানে তিনি একটি বক্তৃতা দিয়েছেন ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেছেন।
লাইকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে মনে করে চীন। মে মাসে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাইওয়ানের চারপাশে দুই দফা যুদ্ধের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীনের সামরিক বাহিনীও প্রতিদিন তাইওয়ানের আশেপাশে সামরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার চীনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়, লাইয়ের যাত্রাবিরতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘স্বাধীনতা চাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা।’ যার মানে, তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তির প্রকৃত ধ্বংসকারী তিনি।
এতে আরও বলা হয়, ‘লাই খুব ভালো করেই জানেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার ‘যাত্রাবিরতি’র দৃঢ় বিরোধিতা করে মূল ভূখণ্ড এবং এর শক্তিশালী পাল্টা ব্যবস্থার নিতে তারা বাধ্য। আর তা শুধু তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়েই তুলবে।’
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টরা প্রশান্ত মহাসাগরীয়, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের সুদূরপ্রসারী মিত্রদের যাতায়াত ও সেসব দেশে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথাগতভাবে যাত্রাবিরতি করে থাকে। এ বিষয়ে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি হলো, নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য এটি তাদের একটি নিয়মিত অনুশীলন।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বলেছে, এটি তাইওয়ানের জন্য ভ্রমণকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার একটি অজুহাত মাত্র।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে আরও বলা হয়, ‘এটি ধাপে ধাপে তাইওয়ানকে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’








