দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ চলছে। মঙ্গলবার (৩ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয় ভোট গ্রহণ। চলবে রাত আটটা পর্যন্ত। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের ব্যর্থ সামরিক শাসন প্রচেষ্টার কারণে সৃষ্ট ছয় মাসব্যাপী বিশৃঙ্খলার পর হওয়া আকস্মিক নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার ভোটাররা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
গত ডিসেম্বর ইউনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিপর্যয়কর সামরিক শাসনের ঘোষণার পর দেশজুড়ে বিভাজন সৃষ্টিকারী বিক্ষোভ ও কয়েক মাসের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, যা এই নির্বাচনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ওই ঘটনা প্রাণবন্ত ও গণতন্ত্রাতিক দেশটির খ্যাতির ক্ষতি করেছে।
ফলে নির্বাচিত নতুন প্রেসিডেন্টকে নেতৃত্ব দিতে হবে একটি গভীরভাবে বিভক্ত দেশকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো এক অনিশ্চিত মিত্রের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে ১৪ হাজার ২৯৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৯০ হাজারের বেশি ভোটারের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার আগাম ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের মতে, সকাল ১১টা পর্যন্ত মোট ভোটারের ১৮ শতাংশের সামান্য বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন।
এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী উদারপন্থি ডেমোক্রেটিক পার্টির লি জায়ে-মিয়ং এবং রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টির কিম মুন-সু। উভয়েই দেশে পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁদের মতে, নতুন একটি গণতান্ত্রিক দেশ ও শিল্প শক্তিতে রূপান্তরের সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক মডেল গড়ে উঠেছিল, তা এখন আর দেশের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।
ভোট গ্রহণের আগে তিন সপ্তাহের প্রচারণা সোমবার রাতে শেষ হয়েছে।
ভোটের ফলাফল কতক্ষণে পাওয়া যাবে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ২০২২ সালে ভোট শেষ হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন আগামীকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছে। বিজয়ী প্রার্থী নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সে দিনই শপথ গ্রহণ করবেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত আটটায় ভোট গ্রহণ শেষে তিনটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালিত বুথ ফেরত জরিপ প্রকাশ করা হবে। আর ব্যালট প্রথমে মেশিনে বাছাই ও গণনা করা হবে, এরপর নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কর্মকর্তারা নিজেদের হাতে তিনবার তা যাচাই করবেন।
ভোটের এক সপ্তাহ আগে গ্যালাপ কোরিয়ার জরিপ অনুযায়ী, লি ৪৯ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে কিমের চেয়ে ১৪ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। যদিও ১২ মে প্রচারণা শুরুর সময় এই ব্যবধান আরও বড় ছিল এবং কিম তা কিছুটা কমিয়েছেন।
ইউনকে ৪ এপ্রিল সংসদে অভিশংসিত ও সাংবিধানিক আদালতের মাধ্যমে অপসারণের পর প্রেসিডেন্টের পদ ফাঁকা রয়েছে। তাই কোনও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া হবে না।








