থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই দেশের সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার ভোরে কম্বোডিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওদার মিনচে প্রদেশে অবস্থিত তা মোয়ান থম মন্দির সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে বলে থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
থাই সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কম্বোডিয়ার সেনারা প্রথমে ওই এলাকায় নজরদারি ড্রোন পাঠায় এবং পরে ভারী অস্ত্রসহ সেনা মোতায়েন করে গুলি চালায়। পাল্টা জবাব দেয় থাই সেনারাও।
গত মে মাসে সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ সামরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওই সময় এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হন। এরপর থেকে উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
এর জের ধরে সীমান্তবর্তী একাধিক ক্রসিং পয়েন্ট বন্ধ করে দেয় উভয় দেশ। পাশাপাশি, থাইল্যান্ড থেকে জ্বালানি, গ্যাস এবং ফল আমদানি বন্ধ করে দেয় কম্বোডিয়া।
বুধবার সীমান্তে টহলের সময় মাইন বিস্ফোরণে আহত হন এক থাই সেনা। বিস্ফোরণে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়েছে বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী। এর আগে ১৬ জুলাই থাইল্যান্ডের উবন রাচাথানি প্রদেশ সংলগ্ন এলাকায় টহলরত অবস্থায় আরও তিনজন থাই সেনা আহত হন।
থাইল্যান্ডের অভিযোগ, কম্বোডিয়া বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় গোপনে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছে। তবে কম্বোডিয়ার দাবি, ওই সেনারা নির্ধারিত সীমান্ত পথ অতিক্রম করে বিপজ্জনক এলাকায় ঢুকে পড়েছিল। সেখানে আগের যুদ্ধের সময়কার মাইন রয়ে গেছে।
সর্বশেষ সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের প্রতিক্রিয়ায় থাইল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ফেউ থাই পার্টি জানিয়েছে, কম্বোডিয়ায় নিযুক্ত থাই রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে এবং কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক নিম্নতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে।
কম্বোডিয়াও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাংককে নিযুক্ত তাদের সব কূটনীতিককে প্রত্যাহার করেছে এবং থাই কূটনীতিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফনম পেন পোস্ট-এর বরাতে জানা গেছে, কম্বোডিয়া এখন থেকে থাইল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক কেবল ‘সেকেন্ড সেক্রেটারি’ পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখবে।









