এ সপ্তাহেই আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। দুই মাসের কম সময়ের মধ্যে এটি হবে তাঁর দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্র সফর। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলো।
এই সফরটি ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার এই সফরের সংবাদটি এমন এক সময়ে এলো- যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে রপ্তানি শুল্ক নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে।
এই সফরটি সেই সময়েই হচ্ছে,যখন ট্রাম্প পাকিস্তানের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করেছেন। চুক্তিতে তিনি ইসলামাবাদকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দিয়েছেন এবং পাকিস্তানের তেল মজুত অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করছেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, ফিল্ড মার্শাল মুনির এর আগে গত জুনে ওয়াশিংটন সফর করেছিলেন। সে সময় হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছিলেন। এটি ছিল একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম পাকিস্তানের কোনো সেনাপ্রধানের সম্মানে ভোজের আয়োজন। অথচ তিনি পাকিস্তানের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান নন। সেবার আসিম মুনির পাঁচ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন।
পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে এখন পর্যন্ত ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) বা ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের দূতাবাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। যদিও আগের সফরের সময়ই সেনাপ্রধান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি বছরের শেষ ভাগে আবার যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।
পাকিস্তানের সরকারি সূত্রগুলো আরও বলেছে, এটি হবে পালটা সফর। এর আগে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলা পাকিস্তান সফর করেছিলেন। সেই সফরে পাকিস্তান সরকার তাকে নিশান-ই-ইমতিয়াজ (মিলিটারি) পদক প্রদান করে।
রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখার বুধবার ভারতের রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। নতুন এই শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের রপ্তানির ওপর মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে এসে দাঁড়ালো।
এছাড়াও অপারেশন সিন্ধুর পর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, তিনিই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি করিয়েছেন। তবে তার এই দাবি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার অস্বীকার করেছে।







