মিয়ানমারে নিরাপত্তাবাহিনীর নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে: জাতিসংঘের প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ আগস্ট ২০২৫, ২৩:৩৬আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৫, ২৩:৩৬

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী পদ্ধতিগতভাবে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে জাতিসংঘের স্বাধীন অনুসন্ধানী সংস্থা (আইআইএমএম)। মঙ্গলবার প্রকাশিত ১৬ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

২০১৮ সালে গঠিত আইআইএমএম জানায়, মিয়ানমারের আটককেন্দ্রগুলোতে বন্দিদের পিটুনি, বৈদ্যুতিক শক, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, শ্বাসরোধ, এমনকি প্লায়ার্স দিয়ে নখ উপড়ে নেওয়ার মতো নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এই নির্যাতনের ফলে মৃত্যুও হয়েছে। নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে এমন শিশু রয়েছে, যাদের অবৈধভাবে আটক করা হয়েছে নিখোঁজ অভিভাবকের পরিবর্তে।

আইআইএমএমের প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পেয়েছি। এতে মিয়ানমারের আটককেন্দ্রে পদ্ধতিগত নির্যাতনের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও তদন্ত চলমান থাকায় ও তাদের সতর্ক করে দেওয়ার আশঙ্কায় নাম প্রকাশ করা হয়নি।

মিয়ানমারের সামরিকপন্থি সরকার এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। জাতিসংঘের দলটির তথ্য ও দেশটিতে প্রবেশের অনুমতির অনুরোধের জবাবও দেয়নি তারা। এর আগে সামরিক সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করেছে। অস্থিরতার জন্য সন্ত্রাসীদের দায়ী করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের সময়কালে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এতে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্য রয়েছে। এতে রয়েছে শতাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রমাণ, নথি ও ছবি।

মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, তখন থেকে কয়েক লাখ মানুষকে আটক করা হয়েছে। সম্প্রতি সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং চার বছরের জরুরি অবস্থা তুলে দিয়ে নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন এবং নির্বাচনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

আইআইএমএম ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং অভ্যুত্থানের পর সব জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ। সংস্থাটি ব্রিটেন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মতো বিচারব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করছে।

তবে কুমজিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, জাতিসংঘের বাজেট সংকটের কারণে তাদের কাজ হুমকির মুখে পড়েছে। যৌন সহিংসতা, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের গবেষণা এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা তহবিল বছরের শেষে শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে অপরাধ নথিভুক্ত করা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রমাণ সরবরাহের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

/এএ/
সম্পর্কিত
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
সর্বশেষ খবর
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের