তালেবানের নিষেধাজ্ঞার পর আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন কমেছে: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬ নভেম্বর ২০২৫, ২১:১৫আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৫, ২১:১৫

তালেবান সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পর আফগানিস্তানে আফিম চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২০২২ সালে নিষেধাজ্ঞা জারির পর দেশটিতে আফিম উৎপাদনের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে ৩২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দফতর (ইউএনওডিসি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে আফিম খামারের মোট আয়তন গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে। একসময় বিশ্বের মোট আফিমের ৮০ শতাংশই উৎপাদন হতো আফগানিস্তানে। ইউরোপের বাজারে ব্যবহৃত হেরোইনের ৯৫ শতাংশের উৎসও ছিল আফগান আফিম।

তবে ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর ২০২২ সালের এপ্রিলে তালেবান সরকার আফিম চাষ নিষিদ্ধ করে। তারা জানায়, আফিম ইসলামবিরোধী ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। জাতিসংঘ জানিয়েছে, কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও অধিকাংশ আফগান কৃষক এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক কৃষক এখন গমসহ খাদ্যশস্য ফলাচ্ছেন। কিন্তু আফিমের মূল উপাদান পপি বা পপি ফুল এখনও অন্যান্য ফসলের তুলনায় বহুগুণ বেশি লাভজনক। লাভজনক বিকল্পের অভাব, কৃষি উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিকূল জলবায়ুর কারণে আফগানিস্তানের ৪০ শতাংশেরও বেশি আবাদযোগ্য জমি অনাবাদী পড়ে আছে।

জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছরে আফিম চাষের আওতায় জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২০০ হেক্টর, যা মূলত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বাদাখশান প্রদেশ-কেন্দ্রিক। ২০২২ সালের নিষেধাজ্ঞার আগে দেশজুড়ে ২ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে আফিম চাষ হতো।

২০২৫ সালে আফগানিস্তানের চারটি প্রদেশ-বালখ, ফারাহ, লাঘমান ও উরুজগানকে ‘আফিম-মুক্ত’ ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফিম উৎপাদনের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলগুলো থেকেও চাষ প্রায় বিলুপ্ত হওয়া নিষেধাজ্ঞার ব্যাপকতা ও স্থায়িত্ব নির্দেশ করে।

তবে নিষিদ্ধ ফসল ধ্বংসের সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কিছু এলাকায় কৃষকদের প্রতিরোধে সহিংসতা ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএনওডিসি। বাদাখশানের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তবুও দেশের অধিকাংশ কৃষক তালেবান নেতৃত্বের জারি করা ফতোয়া মেনে চলছেন।

হেলমান্দ প্রদেশের এক কৃষক বলেন, নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে জেল হবে, মানলে অভুক্ত থাকতে হবে। টাকার অভাবে হয়তো আবার পপি চাষেই ফিরব।

বিবিসি পশতুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন হেলমান্দে প্রকাশ্যে পপি চাষ দেখা যায় না, তবে গোপনে অনেক ছোট খামার টিকে আছে। এক কৃষক জানান, আমার কিছুই নেই, পরিবারকে খাওয়ানোর উপায়ও নেই। তাই বাধ্য হয়েই চাষ করছি, ঝুঁকি নিয়েই।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আফিম উৎপাদন কমলেও নিষিদ্ধ মাদক মেথঅ্যামফেটামিনের (আইস) পাচার বেড়েছে। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান ও আশপাশের অঞ্চলে এসব সিনথেটিক মাদক জব্দের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

ইউএনওডিসি বলছে, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র এখন সিনথেটিক মাদকের দিকে ঝুঁকছে। কারণ এগুলো সহজে উৎপাদনযোগ্য এবং জলবায়ুগত কারণে ক্ষতির আশঙ্কা কম।

/এএ/
সম্পর্কিত
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী