পাঁচজন সাধু-সন্তকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার কলকাতার বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাক্ষাতের পর বাইরে এসে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে লক্ষাধিক সাধু-সন্তকে নিয়ে মিছিল করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শুভেন্দু জানান, মকর সংক্রান্তির পর এই কর্মসূচি হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামে এক যুবককে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ভারতজুড়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। এই পরিস্থিতিতে প্রায় প্রতিদিনই কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে।
গত সোমবার শুভেন্দু অধিকারী নিজে একটি বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিলেও সেদিন ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি। পরদিন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বিক্ষোভ ঘিরে বেকবাগান এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে, গ্রেফতার হন একাধিক বিক্ষোভকারী।
এই প্রেক্ষিতেই শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীর কর্মসূচি ঘিরে বেকবাগান ও সংলগ্ন বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। বিকালে সাধু-সন্তদের নিয়ে মিছিল করে সেখানে পৌঁছান শুভেন্দু। পাঁচজন সাধু-সন্তকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ভিতরে গিয়ে ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতের পর শুভেন্দু বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের আপত্তি, প্রতিবাদ ও দাবি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি ডেপুটি হাইকমিশনের মাধ্যমে। বাংলাদেশ দূতাবাস আমাদের বারবার এড়িয়ে গেছে।
তিনি দাবি করেন, দেখা না হলে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, দীপুচন্দ্র দাসের ঘটনায় এখনও হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার জানিয়েছি, বাংলাদেশে হিন্দু নিধন বন্ধ করতে হবে এবং অবিলম্বে সংখ্যালঘু হিন্দুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
পাশাপাশি তিনি জানান, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামিন পাবেন না, এমন আশ্বাস পাওয়া গেছে।
আগামী দিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, আমরা বাণিজ্য দফতরের সামনে ধরনায় বসব, যাতে এখান থেকে এক কেজি পেঁয়াজও বাংলাদেশে যেতে না পারে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত লাখ লাখ সাধুকে নিয়ে মকর সংক্রান্তির পর বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বসব, উঠে যাবো না।
তিনি আরও দাবি করেন, চিন্ময় দাস মহারাজকে কোন অপরাধে দীর্ঘদিন জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে, তার কোনও সদুত্তর মেলেনি। শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ওপারের হিন্দুরা মার খাবেন আর এপারের হিন্দুরা চুপ করে দেখবেন, এটা হতে পারে না।
মঙ্গলবারের কলকাতার বেকবাগান ঘটনার প্রসঙ্গে রাজ্য সরকার ও পুলিশের তীব্র সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ যেভাবে লাঠিচার্জ করেছে, তা নিন্দনীয়। সাধু-সন্তসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন, গ্রেফতার করা হয়েছে ১৯ জনকে।
তিনি জানান, নতুন বছরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী কোনও পদক্ষেপ না নিলে তিনি নিজেই সব ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনে নামবেন।









