কী, কেন, কীভাবে

চীন-পাকিস্তানের ৭৫ বছরের সম্পর্ককে ‘লৌহ ভ্রাতৃত্ব’ বলা হয় কেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২১ মে ২০২৬, ২০:০০আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ২১:৫৩

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বের বিভিন্ন জাতি ও সাম্রাজ্য ভূখণ্ডের দখল নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু ১৯৬৩ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তান এমন এক বিরল কাজ করেছিল, যা ইতিহাসে সচরাচর দেখা যায় না। দেশটি হংকংয়ের চেয়ে পাঁচ গুণ বড় একটি ভূখণ্ড অন্য একটি দেশ অর্থাৎ চীনের হাতে তুলে দিয়েছিল।

২১ মে পাকিস্তান ও চীন তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপন করছে। ছয় দশকেরও বেশি সময় আগের সেই শাক্সগাম উপত্যকার ঘটনাই মূলত এই দুই বিপরীতধর্মী দেশের মধ্যকার বিরল বিশ্বাসের প্রাথমিক ইঙ্গিত দেয়, যার মূলে রয়েছে ভারতের সঙ্গে উভয়ের যৌথ শত্রুতা। একদিকে কট্টর কমিউনিস্ট ও ধর্মনিরপেক্ষ এক রাষ্ট্র, অন্যদিকে ধর্মের ভিত্তিতে জন্ম নেওয়া একটি দেশ; এই দুই অসম অংশীদারকে এক সুতোয় বেঁধেছে ভূ-রাজনীতি।

আগামী ২৩ মে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং যাবেন, যেখানে তার সঙ্গে থাকবেন সরকারের শীর্ষস্থানীয় ও সামরিক কর্মকর্তারা। এই বার্ষিকী উপলক্ষে যৌথ বিবৃতি, ইশতেহার এবং জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যগুলোতে উভয় সরকারই গত কয়েক দশক ধরে ব্যবহৃত চেনা শব্দভাণ্ডারগুলোই ব্যবহার করবে, ‘লৌহ ভ্রাতৃত্ব’, ‘সব সময়ের বন্ধু’, ‘পাহাড়ের চেয়েও উঁচু, সাগরের চেয়েও গভীর’।

তবে এই আনুষ্ঠানিক উদযাপনের আড়ালে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের পুরো গল্পটি ঢাকা পড়ে যায়। সেই গল্পের মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত ভূখণ্ড চীনের কাছে হস্তান্তর, একটি পারমাণবিক চুক্তি, যা কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে না এবং ১৯৭১ সালে একটি কূটনৈতিক পথ উন্মুক্ত করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা। অবশ্য এই মধ্যস্থতার জন্য দেশটি খুব একটা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ফাইল ছবি: এপি

যৌথ শত্রুর হাত ধরে সম্পর্কের শুরু

১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ দিল্লিতে যুদ্ধকালীন চীনের জাতীয়তাবাদী নেতা চিয়াং কাই-শেকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। চিয়াং কাই-শেকের সঙ্গে জওহরলাল নেহরুর (যিনি পরবর্তীতে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন) সম্পর্ক ভালো হলেও অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ নেতার প্রতি তিনি একেবারেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। চিয়াং তার ডায়েরিতে লিখেছিলেন, জিন্নাহ ‘অসৎ’ এবং ‘ব্রিটিশরা এই ধরনের মানুষদের ব্যবহার করে’। ইতিহাসবিদ রানা মিটার তার ‘ফরগটেন অ্যালাই: চায়নাস ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু, ১৯৩৭-১৯৪৯’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন, চিয়াং বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতি পছন্দ করতেন না।

তবে এর ৯ বছর পর, জিন্নাহর প্রতিষ্ঠিত দেশ পাকিস্তানই চীনের মূল ভূখণ্ডে চিয়াংয়ের প্রজাতন্ত্রকে হঠিয়ে দেওয়া কমিউনিস্ট রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৫০ সালের জানুয়ারিতে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে বেইজিংকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং প্রথম অ-কমিউনিস্ট দেশগুলোর একটি ছিল পাকিস্তান। ১৯৪৭ সালের আগস্টে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের পুরোপুরি গুছিয়ে নেওয়ার আগেই ভারতের বিপরীতে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজন ছিল পাকিস্তানের। ফলে আদর্শের চেয়ে এখানে ভূগোল এবং হুমকির আশঙ্কাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছিল।

কমিউনিস্টদের বিস্তার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত জোট সিয়াটো-তে ১৯৫৪ সালে এবং সেন্টো-তে ১৯৫৫ সালে ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেও তাদের কূটনীতিকরা নিঃশব্দে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার নেভাল পোস্টগ্রাজুয়েট স্কুলের স্কলার এবং সাবেক পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার ফিরোজ হাসান খান বলেন, ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্কটা সবসময়ই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ ছিল। পাকিস্তান বুঝতে পেরেছিল যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কৌশলগত শত্রুতা বজায় রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পশ্চিমারা দূরবর্তী, শক্তিশালী ও বাস্তববাদী হতে পারে, কিন্তু তারা প্রতিবেশী নয়।’

চীনা নেতারা বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তান তাদের শত্রু নয়; বরং পাকিস্তানের মূল উদ্বেগ ভারতকে নিয়ে, যার সঙ্গে ১৯৪৮ সালেই তারা একটি যুদ্ধ লড়েছে। অন্যদিকে বেইজিং নিজেও তখন দিল্লির প্রতি ক্রমেই অবিশ্বাসী হয়ে উঠছিল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘যৌথ হুমকি হিসেবে ভারত না থাকলে পাকিস্তান-চীন সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। এই কাঠামোগত যুক্তি দশকের পর দশক ধরে টিকে আছে।’

চীন ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ফাইল ছবি: এপি

গোপন ভিত্তি: ভূখণ্ড ও পারমাণবিক সহযোগিতা

পাকিস্তান-চীন সম্পর্কের আসল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে দুটি অধ্যায়ের ওপর। প্রথমটি ছিল শাক্সগাম উপত্যকা হস্তান্তর, যার নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো। সাবেক ব্রিগেডিয়ার খান বলেন, ‘এটি ছিল রাষ্ট্রনায়কোচিত কূটনীতির এক চমৎকার উদাহরণ।’

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো পারমাণবিক সহযোগিতা, যা উভয় সরকারই এড়িয়ে যায়। ১৯৬৪ সালের অক্টোবরে চীন লোপ নূরে তাদের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। এক দশক পর, ১৯৭৪ সালে ভারতের পোখরান পারমাণবিক পরীক্ষার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভুট্টো স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেকোনও মূল্যেই হোক পাকিস্তান এই সক্ষমতা অর্জন করবে। এর ঠিক তিন বছর আগে, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ভারতের কাছে পাকিস্তানের শোচনীয় পরাজয় ঘটে, যার ফলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয় এবং প্রায় ৯৩ হাজার সেনা আত্মসমর্পণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সামরিক আত্মসমর্পণ।

ফয়সাল বলেন, এটিই ছিল পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল চালিকাশক্তি।

১৯৭৬ সালে চীন ও পাকিস্তান একটি দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং স্বাধীন বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮০-এর দশকে চীন পাকিস্তানকে অস্ত্রের নকশা এবং অন্তত দুটি ডিভাইসের জন্য পর্যাপ্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহ করেছিল। তবে পারমাণবিক বিস্তারের দায় এড়াতে উভয় সরকারই তা অস্বীকার করে।

সাবেক ব্রিগেডিয়ার খান বলেন, ‘পাকিস্তান যেখানেই আটকে যেত, চীন খুচরা যন্ত্রাংশ, জ্ঞান ও সহযোগিতা দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করতো।’

১৯৯৮ সালের মে মাসে ভারতের পারমাণবিক পরীক্ষার জবাবে পাকিস্তান যখন বেলুচিস্তানের চাগাইতে পরীক্ষা চালায়, তখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিন্দা প্রস্তাবে বাধা দিয়েছিল চীন।

গোপন কূটনীতির মাধ্যম

১৯৭১ সালের জুলাই মাসে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার ইসলামাবাদ থেকে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) একটি ফ্লাইটে চড়ে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হন। তখন তার অসুস্থতার একটি ভুয়া গল্প ছড়ানো হয়েছিল। এই গোপন যোগাযোগের ফলেই ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন চীন সফর করেন, যা বিংশ শতাব্দীর ভূ-রাজনীতিকে বদলে দিয়েছিল।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফাইল ছবি

অধ্যাপক কারাই বলেন, ‘যে রাষ্ট্রগুলো পরাশক্তিদের কাছাকাছি আসতে সাহায্য করে, তারা সাধারণত সেই অনুপাতে পুরস্কার পায় না।’ ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মমতার বিষয়ে নিক্সন প্রশাসনের নীরবতাকে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার মাধ্যমকে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হয়েছিল। লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর পরও ওয়াশিংটন চুপ ছিল, কিন্তু শীতল যুদ্ধের এই ঐতিহাসিক পথ উন্মুক্ত করার জন্য পাকিস্তান কোনও আনুষ্ঠানিক পুরস্কার পায়নি।

তবে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত সরদার মাসুদ খান এই সম্পর্ককে কেবল লেনদেনভিত্তিক মানতে নারাজ। তার মতে, ‘চীন বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানের এই ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে, যেখানে ওয়াশিংটনের প্রশংসা পরবর্তী প্রশাসনগুলোর সঙ্গে ফিকে হয়ে গেছে।’

সিপেক: আশার আলো নাকি ঋণের ফাঁদ?

২০১৫ সালের এপ্রিলে শি জিনপিং যখন ইসলামাবাদে এসে ৬২ বিলিয়ন ডলারের সিপেক প্রকল্পের ঘোষণা দেন, তখন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা একে ‘গেম চেঞ্জার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক স্টেলা হং ঝাং বলেন, এই প্রত্যাশা প্রথম থেকেই বাস্তবসম্মত ছিল না। সিপেক পাকিস্তানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ালেও ১৯৯০-এর দশক থেকে চলে আসা চক্রবৃদ্ধি ঋণ সংকট সমাধান করতে পারেনি, বরং কিছু ক্ষেত্রে তা বাড়িয়েছে। গোয়াদর বন্দরকে একটি বড় সামুদ্রিক হাব বানানোর পরিকল্পনাও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। কারণ এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশীদারত্ব ছিল না।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা। বেইজিংভিত্তিক হরিজন ইনসাইটস সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক হে আন বলেন, ‘চীনা রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো আর্থিক ক্ষতির চেয়ে মানুষের প্রাণহানিকে বেশি ভয় পায়।’ ২০২১ সাল থেকে পাকিস্তানে হামলায় অন্তত ২০ জন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি গোয়াদরসহ বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত হামলা চালিয়ে সিপেক-এর মূল বন্দরের নিরাপত্তাহীনতাকে সামনে এনেছে।

বেইজিংয়ের গ্র্যান্ডভিউ ইনস্টিটিউশনের পরিচালক ঝোউ রং সংক্ষেপে বলেন, ‘বেইজিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কৌশলগতভাবে সফল হলেও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। বেইজিং কখনোই পাকিস্তানকে ভেঙে পড়তে দেবে না, কারণ ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক উপযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

অস্ত্র আমদানিতে চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল পাকিস্তান। ফাইল ছবি: এপি

সামরিক নির্ভরতা ও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

বর্তমানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানির ৮০ শতাংশই আসে চীন থেকে, যা এক দশক আগের চেয়ে অনেক বেশি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানি ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। যৌথভাবে উৎপাদিত জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে ফ্রিগেট এবং এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এখন চীনা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে একীভূত।

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সামরিক সংঘাতের সময় এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়। বিশ্লেষক ফয়সাল বলেন, ‘এই সংঘাতের পর চীনা যন্ত্রাংশের ওপর পাকিস্তানের আস্থা আরও বেড়েছে এবং যৌথ উৎপাদন ত্বরান্বিত হচ্ছে। চীনের জন্য এটি ছিল পশ্চিমা ও রুশ উন্নত প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি জীবন্ত প্রদর্শনী।’

গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে পাকিস্তান চীনের অভ্যন্তরীণ পুঁজিবাজারে তার প্রথম ‘পান্ডা বন্ড’ ইস্যু করেছে, যার মূল্য ২৫০ মিলিয়ন ডলার। কর্মকর্তারা একে সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। বন্ডটি এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন-ইরান সংঘাত নিয়ে বেইজিং ও ইসলামাবাদ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান মনে করেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের ভূমিকা ১৯৭১ সালের চেয়েও বেশি দায়িত্বশীল। তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট, সিপেক-এর ঋণ এবং হোয়াইট হাউজে অনিশ্চিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতির কারণে চীন-ভারতের সম্পর্কের সাম্প্রতিক উষ্ণতা ইসলামাবাদের জন্য এমন কিছু ভ্যারিয়েবল তৈরি করেছে, যা তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা

/এএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ইআইইউ’র বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার পরে কেবল ত্রিপোলি ও দামেস্ক
৩০০ কোটির অবৈধ সম্পদ, পুলিশের ডিএসপি গ্রেফতার
গোপন শর্তে রাজি না, ট্রাম্পের সাহায্য ফিরিয়ে দিচ্ছে আফ্রিকা
সর্বশেষ খবর
উত্তরপত্রে নম্বর কম-বেশি দিলে বছরের জেল
উত্তরপত্রে নম্বর কম-বেশি দিলে বছরের জেল
মিসরের বিপক্ষে তিন পরিবর্তন আর্জেন্টিনার, আক্রমণে মেসির নতুন সঙ্গী
মিসরের বিপক্ষে তিন পরিবর্তন আর্জেন্টিনার, আক্রমণে মেসির নতুন সঙ্গী
ঢাবিতে আজ বড়পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা দেখা যাবে না
ঢাবিতে আজ বড়পর্দায় বিশ্বকাপ খেলা দেখা যাবে না
পে স্কেল: মূল বেতন এক ধাপে
পে স্কেল: মূল বেতন এক ধাপে
সর্বাধিক পঠিত
‘আপনি জানেন না আমি কে’, এমবাপ্পেকে হুঁশিয়ারি প্যারাগুয়ের সিনেটরের
‘আপনি জানেন না আমি কে’, এমবাপ্পেকে হুঁশিয়ারি প্যারাগুয়ের সিনেটরের
এনসিপির নাহিদ ইসলামের সমাবেশস্থলে বিস্ফোরণ
এনসিপির নাহিদ ইসলামের সমাবেশস্থলে বিস্ফোরণ
ধানক্ষেত-জঙ্গল পেরিয়ে যা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
ধানক্ষেত-জঙ্গল পেরিয়ে যা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রতিমন্ত্রীর এক চিঠিতে ১৭ দিনের মাথায় সদরঘাট থানার ওসি প্রত্যাহার
প্রতিমন্ত্রীর এক চিঠিতে ১৭ দিনের মাথায় সদরঘাট থানার ওসি প্রত্যাহার
কান্নাভেজা বিদায়ে অবসর নিয়ে যা বললেন রোনালদো
কান্নাভেজা বিদায়ে অবসর নিয়ে যা বললেন রোনালদো