চীনে নিম্ন উচ্চতার আকাশ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন ভার্টিকেল টেক অফ বা খাড়া উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম উড়োজাহাজ। যার আরেক নাম ইভিটল। জটিল পাহাড়ি অঞ্চলে যাত্রীবাহী ইভিটল পরীক্ষায় নেতৃত্ব দিচ্ছে চীনের সিছুয়ান প্রদেশ। চীন এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রথম ইভিটল ইঞ্জিনও উৎপাদন করেছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যারোফুগিয়া সিছুয়ানের পান্ডা এয়ার করিডর-এ সফল পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করে। আকাশপথটি ইয়াআনের বিফেংশিয়া ও উলং শেনশুপিং নামের দুটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রকে সংযুক্ত করেছে।
সাধারণ সড়কপথে যেখানে যাত্রায় প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে ইভিটিওএল উড়োজাহাজে সেই পথ অতিক্রম করা সম্ভব মাত্র ৪৫ মিনিটে।
সিয়াংইউয়ান জেনারেল এভিয়েশনের মহাব্যবস্থাপক ওয়াং হোংসিয়াও জানান, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের জন্য বিশেষ কম-উচ্চতার আকাশপথ তৈরি করে আমরা পর্যটকদের পাহাড়, গিরিখাত ও স্থানীয় পরিবেশের অনন্য আকাশদৃশ্য উপভোগের সুযোগ দিচ্ছি। পান্ডা সংরক্ষণ ও ভূতাত্ত্বিক শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গেও এটি যুক্ত করা হয়েছে।’
তবে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়া, জটিল বায়ুপ্রবাহ এবং উচ্চতার বড় পার্থক্য এ ধরনের উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।
সিয়াংইউয়ান জেনারেল এভিয়েশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক ওয়াং চেংউ জানালেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি। আকাশ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নরকম দেখা যায়। কম উচ্চতার ফ্লাইটের মাধ্যমে মানুষ কম সময় ভ্রমণ করে গন্তব্যে বেশি সময় উপভোগ করতে পারবে।’
অ্যারোফুগিয়া এখন তাদের ইভিটল উড়োজাহাজের আনুষ্ঠানিক সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির আশা, ২০২৭ সালের মধ্যে উড়োজাহাজটি টাইপ সার্টিফিকেশন পাবে।
এরই মধ্যে আবার চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইভিটল ইঞ্জিন বের হয়েছে উৎপাদন লাইন থেকে। চিয়াংসুর উসি শহরে উন্মোচিত এএইই২৫ নামের বৈদ্যুতিক বিমান ইঞ্জিনটি তৈরি করেছে অ্যারো ইঞ্জিন করপোরেশন অব চায়নার অ্যারোইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম ইনস্টিটিউট। ইঞ্জিনটি তুলনামূলকভাবে হালকা। ফলে এতে আরও বেশি যাত্রী বহন করা সম্ভব হবে।
অ্যারোইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম ইনস্টিটিউট, এইইসিসি’র লিউ কুওপিং উপপরিচালক, ‘এটি সমন্বিত একটি পণ্য। প্রপেলার ও বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেই এটি কাজ শুরু করতে পারে। নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি মোটর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় দ্বৈত কাঠামো রাখা হয়েছে। কোনো একটি অংশে ত্রুটি দেখা দিলেও শক্তি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্যটন, জরুরি উদ্ধার, আঞ্চলিক যাত্রী পরিবহন এবং ভবিষ্যতের নগর আকাশযাত্রায় ইভিটল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। ততদিনে নিজস্ব ইঞ্জিন প্রযুক্তির সফলতায় চীনের কম উচ্চতার আকাশ অর্থনীতির বিকাশ হবে আরও গতিশীল।
সূত্র: সিএমজি








