ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড (এনপিসিআইএল) এবং ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে ওঠা একাধিক প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলামে (কেকেএনপিপি) কোনও সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি বলে এনপিসিআইএল দাবি করেছে। অন্যদিকে, ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা থেকে কর্মীদের গণপদত্যাগের মুখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ (ডিওএস) ইসরোকে এক নির্দেশনার মাধ্যমে কর্মীদের স্বেচ্ছাবসর ও পদত্যাগের নিয়ম আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরোর এই বিশেষ নির্দেশনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং সাংবাদিকদের বলেন, এটি স্রেফ প্রশাসনিক কারণে করা হয়েছে, অন্য কোনও কারণ এর পেছনে নেই।
তিনি বলেন, না, এটি আসলে প্রশাসনিক কারণেই করা হয়েছে যাতে আরও উচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে ইসরোর জনবল অনেক, যেখানে মানুষ যেমন চাকরি ছেড়ে চলে যায়, তেমনি অনেকে নতুন করে যোগও দেয়। এই বিষয়ে কোনও বিতর্ক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে চলেও গেছেন, আবার অনেকেই এসেছেন।
কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে নিয়ে হওয়া শোরগোলের আসলে কৌশলগত এই স্থাপনার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই বলে ইঙ্গিত দেন মন্ত্রী। যেখানে আদতে কিছুই ঘটেনি, সেখানে নতুন করে পর্যালোচনার কী প্রয়োজন, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
ইসরোর সাবেক চেয়ারম্যান ড. এস সোমনাথ চেন্নাইভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান অগ্নিকুল কসমস-এর পরিচালনা পর্ষদের পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইসরোর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মেয়াদকালেই চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণ এবং ভারতের প্রথম সূর্য পর্যবেক্ষণ মিশন আদিত্য-এল১ উৎক্ষেপণের মতো বেশ কিছু ঐতিহাসিক মিশন পরিচালিত হয়েছে।
ভারতের ভবিষ্যৎ মহাকাশ মিশন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ইসরোর সাবেক প্রধানের ১০ বছর আগের একটি মন্তব্যের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর আগের প্রাথমিক দিকের একটি বৈঠকে তিনি বলেছিলেন যে মহাকাশে মানুষ পাঠানো সহজ, তবে তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনাই কঠিন। আর এভাবেই মূলত ক্রু মডিউলের কাজ শুরু হয়েছিল। এখন সোমনাথ আর এই দায়িত্বে নেই, তার মানে এই নয় যে মহাকাশ মিশন বন্ধ হয়ে গেছে। এমনটা ঘটে না। তাছাড়া ইসরোতে কাজ চলে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত ও সাবেক বিজ্ঞানীরাও এই প্রকল্পগুলোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকেন। সেখানকার কাজের সংস্কৃতিটাই আলাদা।
১৪ জুলাই ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউআরএসসি) এবং বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের (ভিএসএসসি) মতো কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো ইসরোর ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভারতের মর্যাদাপূর্ণ মানব মহাকাশযান কর্মসূচি ‘গগনযান’ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মিশন-এর সঙ্গে যুক্ত গ্রুপ ‘এ’ ভুক্ত বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত কর্মীদের পদত্যাগ বা স্বেচ্ছাবসরের আবেদন যেন ঢালাওভাবে গ্রহণ করা না হয়।
অন্যদিকে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য ফাঁসের অভিযোগের বিষয়টি যৌথভাবে তদন্ত করছে এনপিসিআইএল এবং ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সিইআরটি-ইন)। কুদানকুলামে বর্তমানে রাশিয়ার নকশায় তৈরি দুটি ১ হাজার মেগাওয়াটের পারমাণবিক চুল্লি চালু রয়েছে এবং আরও চারটি ইউনিটের নির্মাণকাজ চলছে। এই প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে এটি ৬ হাজার মেগাওয়াটের মোট উৎপাদন ক্ষমতাসহ ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিণত হবে।
সূত্র: এনডিটিভি

দলে দলে কেন ইসরো ছাড়ছেন ভারতীয়রা
খামেনির জানাজায় শরিক হয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর
মা-বাবা ও দাদা-দাদিকে কানাডায় নেওয়ার আবেদন স্থগিত
লন্ডন অচল করা সেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হ্যাকার ও তার সহযোগীর কারাদণ্ড






