পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচির আওতায় মা-বাবা এবং দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কানাডায় স্পন্সর করার নতুন আবেদন এ বছর আর গ্রহণ করবে না দেশটির ফেডারেল সরকার। দেশটির অভিবাসন বিভাগ ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) জানিয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থাকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিচালনা করা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বিভাগটি বলেছে, এই কর্মসূচির প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আবেদনের সংখ্যা নির্ধারিত কোটার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে গেছে।
বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৬০ হাজার ৫০০টি আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এগুলো প্রক্রিয়াজাত হতে গড়ে প্রায় ৩৩ মাস সময় লাগছে, যা কুইবেক প্রদেশের ক্ষেত্রে ৬৬ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। ২০২০ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির শুরুতে প্রায় ২ লাখেরও বেশি স্থায়ী বাসিন্দা ও নাগরিক তাদের মা-বাবা কিংবা দাদা-দাদিকে কানাডায় নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। প্রতিবছর আগ্রহ প্রকাশকারীদের মধ্য থেকে হাজার হাজার মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনের জন্য নির্বাচন করা হয়।
অভিবাসন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন আবেদন নেওয়া স্থগিত করা হলেও ২০২৬ ও ২০২৭ সালে অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৫ হাজার পর্যন্ত মানুষকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও প্রভাব পড়বে না। গত শরতে ঘোষিত ওই পরিকল্পনায় ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দাকে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালে অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট ও স্টুডেন্ট ভিসার সংখ্যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনা হয়েছে।
অভিবাসন পরিকল্পনা সমন্বয়ের সামগ্রিক প্রভাবে চলতি বছরও দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো অপরিবর্তিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় অভিবাসন একটি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল রক্ষণশীল বলছে যে পুরো অভিবাসন ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়েছে। তারা ক্ষমতাসীন লিবারেলদের বিরুদ্ধে এমন নীতি অনুসরণের অভিযোগ তুলেছে যা অভিবাসনকে কানাডার জন্য ইতিবাচক ভাবার দীর্ঘদিনের সর্বজনীন ধারণাকে নষ্ট করেছে।
২০২৫ সালে অভিবাসনমন্ত্রী লেনা ডিয়াবের জন্য তৈরি করা ব্রিফিং নথিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, সরকারের নিজস্ব জরিপেই দেখা গেছে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে কানাডিয়ানদের অভিবাসন সমর্থন গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরের এক জরিপে অর্ধেকেরও বেশি কানাডিয়ান মনে করেন যে দেশে মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসী আসছে। গত মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে অভিবাসনমন্ত্রী ডিয়াব বলেছিলেন, সরকার আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ ও স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে।
তা ছাড়া, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার গত মার্চে একটি আইন পাস করেছে যা আশ্রয় প্রার্থনার যোগ্যতা কঠোর করেছে। এই আইনের মাধ্যমে একটি নতুন সময়সীমার বাইরে করা হাজার হাজার আবেদনকে ভূতাপেক্ষভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং অটোয়াকে গণহারে ভিসা বাতিলের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
কানাডার অভিবাসন বিভাগ গত কয়েক বছর ধরেই লাখ লাখ মানুষের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে বিভিন্ন জটের সম্মুখীন হচ্ছে। গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব মিলিয়ে এই বিভাগে ২১ লাখেরও বেশি আবেদন জমা ছিল, যার মধ্যে ৯ লাখ ২২ হাজারের বেশি আবেদনকে জট হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। যার অর্থ এগুলো সম্পন্ন করতে বিভাগের নিজস্ব পরিষেবা মানদণ্ডের চেয়েও বেশি সময় লেগেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের অর্ধেক আবেদনও নির্ধারিত পরিষেবা মানদণ্ডের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়নি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ১ লাখ ১২ হাজার ৯০০ জন মানুষ স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, মা-বাবা ও দাদা-দাদির স্পন্সরশিপের নতুন আবেদন নেওয়ার এই স্থগিতাদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে কানাডার নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দারা তাদের মা-বাবা ও দাদা-দাদির জন্য অস্থায়ীভাবে সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদি এবং একবারে টানা ৫ বছর থাকার সুবিধাযুক্ত সুপার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সূত্র: সিবিসি

লন্ডন অচল করা সেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হ্যাকার ও তার সহযোগীর কারাদণ্ড
লোহিত সাগর বন্ধ করতে হুথিদের নির্দেশ ইরানের
প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করে বিক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে জেলেনস্কি







