গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনও অবস্থাতেই অস্ত্র সমর্পণের পথে হাঁটবে না ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গাজী হামাদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনও ভূমিকা থাকবে না। বরং ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটি এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।
গত বছরের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি হামাস বড় অংশে মেনে চললেও ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে হামাসের সূত্র জানায়, গাজা পরিচালনার জন্য বোর্ড অব পিস গঠিত টেকনোক্র্যাট কমিটিই হবে হামাসের অস্ত্র ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের একমাত্র তদারককারী সত্ত্বা।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া আলাদা বক্তব্যে হামাস পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পণ্য প্রবেশের ওপরই অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি নির্ভরশীল। গাজী হামাদ বলেন, আমরা মধ্যস্থতাকারীদের স্পষ্ট করে জানিয়েছি যে, ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, টেকনোক্র্যাট কমিটি এবং আন্তর্জাতিক বাহিনীকে গাজার ভেতরে ইসরায়েল সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিলুপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার বোর্ড অব পিস ঘোষণা দেয়, গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপগুলো বাস্তবায়নে একটি বিস্তারিত কাঠামোতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি জানিয়েছে হামাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট শান্তি পরিকল্পনা ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নে মাসের পর মাস চলা আলোচনার পর এই ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ এসেছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামাসের অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলেই কেবল ইসরায়েলি বাহিনী গাজা ছেড়ে যাবে।
তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার মন্ত্রীরা বারবার বলে আসছেন যে, অবরুদ্ধ এলাকাটি ইসরায়েলি বাহিনী ছাড়বে না। গত মে মাসে নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং প্রায় ২০ লাখ অধিবাসীর পুরো গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানকার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও পয়োনিষ্কাশনবিহীন ঘিঞ্জি তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

জাপানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় চীনের সতর্কবার্তা
এক উটের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ৫ বার পল্টি দিলো গাড়ি, মেজর নিহত
সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৮৪ হাজার কোটি রুপির প্রকল্প ভারতের






