বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গ কীভাবে ভাঙলেন পিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:২৬ আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:২৬

‘আপনি নিজে জিততে পারবেন?’, অন্যান্য নেতাদের নির্বাচনে জেতাতে বছর পর বছর কাজ করে আসা যেকোনও ভোটকুশলীকে প্রায়শই এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। অবশেষে সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ভোটকুশলী ও জন সুরজ পার্টি (জেএসপি)-র প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনের জয় প্রশান্ত কিশোর ও তার দলের জন্য এক জোড়া ইতিহাস তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের পর এটি পিকের নেতৃত্বাধীন দুই বছরের পুরোনো জন সুরজ পার্টির প্রথম দলীয় জয় এবং এক প্রার্থী হিসেবে প্রশান্ত কিশোরের প্রথম নির্বাচনি সাফল্য।

বিজেপির কাছ থেকে বাঁকিপুর আসনটি ছিনিয়ে নিয়ে আসনটিতে নীতিন নবিনের পরিবারের টানা ৩৫ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে জন সুরজ পার্টি। বিজেপির নিরজ কুমার সিনহা ও আরজেডির রেখা কুমারীকে ১৯ হাজার ৩২৪ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন পিকে। ফলাফল ঘোষণার পর সোমবার তিনি মন্তব্য করেন, ‘৩০ বছরের ব্যবধান মাত্র ৩০ দিনে পূরণ হয়ে গেছে।’

দীর্ঘদিনের সংগঠন, শক্তিশালী ক্যাডার বাহিনী বা জাতিভিত্তিক রাজনৈতিক সমীকরণ ছাড়াই একদম নতুন ও অনভিজ্ঞ একটি দল নিয়ে বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের দুর্গে আঘাত হেনেছেন তিনি। পাটনার প্রাণকেন্দ্রে বিজেপির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে কীভাবে পরাস্ত করলেন তিনি?

আসনটি ফাঁকা হয়েছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতিন নবিন বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করে রাজ্যসভায় যাওয়ার পর। আসনটি রক্ষা করা বিজেপির জন্য একরকম আনুষ্ঠানিকতা মাত্র ছিল, কারণ টানা ২০ বছর নীতিন নবিন এবং তার আগে ১৫ বছর তার বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহা এটি ধরে রেখেছিলেন। এই উপনির্বাচনটি শুধু প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক পরীক্ষার জন্য নয়, বরং বিজেপির সম্রাট চৌধুরী বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলটির প্রথম নির্বাচনি পরীক্ষা হওয়ায় এটি দুই পক্ষেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক লড়াই ছিল। ২০২৫ সালের নির্বাচনে খালি হাতে ফেরার পর পিকের জন্য এই জয় বিহারের রাজনীতিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্র তৈরি করলো।

২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরণের হারের পর নিজের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হন প্রশান্ত কিশোর। দলটির বিশালাকার নির্বাচনি কাঠামো ছোট করে ১০০ জনের একটি মূল দল করা হয়, যাদের সহযোগিতায় কাজ করেছে নারী ভোটার, জাতিভিত্তিক প্রচার, বুথ ব্যবস্থাপনা ও ডাটা অ্যানালিটিক্সের বিশেষায়িত দলসমূহ। বড় সমাবেশের ওপর নির্ভর না করে তিনি জোর দেন নিরবচ্ছিন্ন ব্যক্তিপর্যায়ের যোগাযোগের ওপর।

বিজেপি বা আরজেডি পুরোদমে নির্বাচনি প্রচার শুরুর প্রায় দুই মাস আগেই বাঁকিপুরে কাজ শুরু করেন পিকে। গলিঘুঁজিতে হেঁটে হেঁটে চায়ের দোকানে বৈঠক, পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা, গভীর রাত পর্যন্ত পদযাত্রা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের ভোটারদের সঙ্গে ছোট ছোট মতবিনিময় সভার মাধ্যমে তিনি মাটি শক্ত করেন। বড় বড় প্রতিশ্রুতির বদলে তিনি গুরুত্ব দেন জলাবদ্ধতা, জরাজীর্ণ রাস্তা, যানজট, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের মতো দৈনন্দিন নাগরিক সমস্যাগুলোর ওপর।

সামরিক সুনির্দিষ্টতার মতো ছিল তার এই প্রচার অভিযান। প্রতিদিন সকালে পার্ক ও চায়ের দোকানগুলোতে কাজ করেছেন তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা। বিকেলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন নারী সদস্যরা। পুরো আসনটিকে কয়েকটি পরিচালনা অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি স্তরে কমিটি গঠন করা হয়, আর প্রশান্ত কিশোর নিজে হয়ে ওঠেন দলের প্রধান মুখ ও মূল চালিকাশক্তি। প্রথাগত ভোটব্যাংক ও ঐতিহ্যবাহী কোনও নেটওয়ার্ক ছাড়াই নির্বাচন চলাকালীন দল গড়ে তোলার মতো বিরল এক কায়দায় ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

/এএ/
সম্পর্কিত
ডেমোক্র্যাটদের জয়ে বিশ্বজুড়ে যেভাবে পড়তে পারে প্রভাব
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে ভারত ও পাকিস্তানের কী হবে?
মার্কিন নির্বাচনের ফল নিয়ে ইরানিদের খামেনির সতর্কবার্তা
সর্বশেষ খবর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আগামী সপ্তাহের সম্মেলনে আলোচনা করবেন ইইউ নেতারা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আগামী সপ্তাহের সম্মেলনে আলোচনা করবেন ইইউ নেতারা
কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারালেন ট্রাম্প: তৈরি পোশাকে শুল্ক কমার সম্ভাবনা কতটা?
কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারালেন ট্রাম্প: তৈরি পোশাকে শুল্ক কমার সম্ভাবনা কতটা?
ডেমোক্র্যাটদের জয়ে বিশ্বজুড়ে যেভাবে পড়তে পারে প্রভাব
ডেমোক্র্যাটদের জয়ে বিশ্বজুড়ে যেভাবে পড়তে পারে প্রভাব
বছরে দু’টি ইঞ্জেকশনেই কমবে এইচআইভির ঝুঁকি! অনুমোদন পেলো নতুন ওষুধ
বছরে দু’টি ইঞ্জেকশনেই কমবে এইচআইভির ঝুঁকি! অনুমোদন পেলো নতুন ওষুধ
সর্বাধিক পঠিত
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
নতুন দায়িত্বে ইশরাক হোসেন
‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ
চাঁদাবাজির মামলায় চার্জশিট দাখিল ‘আমি গরিবের ছেলে, লোভ সামলাতে পারিনি’, জবানবন্দিতে ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদ
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে যা বললো ভারত
বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে যা বললো ভারত
ধানক্ষেতে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় সেখানেই স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা
ধানক্ষেতে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় সেখানেই স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা
ছেলের লাশ নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি বাবা, কেঁদে কেঁদে বললেন ‌‘মাফ করে দিলাম’
ছেলের লাশ নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি বাবা, কেঁদে কেঁদে বললেন ‌‘মাফ করে দিলাম’