গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল এক বিশাল ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল নিয়ে জাপান সফর করেছেন। এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ভারতে জাপানের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই এই সফর অনুষ্ঠিত হলো।
মুম্বাই, দিল্লি বা বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলোতে ইউনিফ্লো, মুজি এবং অনিতসুকা টাইগারের মতো জনপ্রিয় জাপানি ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত ব্যবসা বাড়াচ্ছে। এছাড়া নিটোরির মতো ফার্নিচার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নতুন করে বাজার প্রবেশ করেছে এবং কনভিনিয়েন্স স্টোর চেইন লসন ২০৫০ সালের মধ্যে মুম্বাই থেকে শুরু করে ভারতে ১০ হাজার দোকান খোলার পরিকল্পনা করছে।
শুধু খুচরা ব্যবসা নয়, অর্থসংস্থান খাতেও জাপানি ব্যাংকগুলোর আধিপত্য বাড়ছে। গত বছর এমইউএফজি ব্যাংক ৪৪০ কোটি ডলারে শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে, যা ভারতের আর্থিক খাতে বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগ। পাশাপাশি সুমিতোমো মিতসুই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এসএমবিসি) ইয়েস ব্যাংকের ২৪.২২ শতাংশ শেয়ার নিয়ে একক বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার হয়েছে। ডেলয়েটের রিপোর্ট অনুযায়ী, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টারে (জিসিসি) ১০০টিরও বেশি জাপানি প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছে।
নেক্সট ভারত ভেঞ্চার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা বিপুল নাথ জিন্দাল জানান, গত ১৬-১৭ বছর ধরে জাপানের জনসংখ্যা কমায় সেখানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্থায়ীভাবে হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও শুল্কনীতির কারণে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভারত একটি স্বাভাবিক নতুন বাজার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুজুকি মোটর সমর্থিত এই প্রভাব তহবিল সম্প্রতি ভারতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তৎকালীন জাপানি নেতৃত্বের উদ্যোগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বে রূপ নেয়। তবে বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিনিয়োগে মূল চালিকাশক্তি। সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সময় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো খনিজ থেকে শুরু করে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ খাতে ১২.৫ বিলিয়ন ডলারের ১২০টি চুক্তি সই করেছে। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তোশিরো নিশিজাওয়ার মতে, নীতি নির্ধারকদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চেয়ে এটি মূলত জাপানি সংস্থাগুলোর নিজস্ব ব্যবসায়িক ঝুঁকির পুনর্মূল্যায়ন ও বাজার বৈচিত্র্যকরণের কৌশল।
সিডনিভিত্তিক লোই ইনস্টিটিউটের ভারত চেয়ার শ্রুতি পান্ডালাই জানান, জাপানি সংস্থাগুলো চীন থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে না, তবে সাপ্লাই চেইনের ঝুঁকি কমাতে ভারতকে একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করছে। এই যৌথ সহযোগিতা চীনের ওপর নির্ভরতা ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতকে সাহায্য করতে পারে।
তবে এই বিনিয়োগের পথে বড় বাধা ভারতের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, কর অনিশ্চয়তা এবং ভূমি ও পরিবেশ সংক্রান্ত অনুমোদনের বিলম্ব। সম্প্রতি ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প নিয়ে বিলম্বের জন্য এক সাবেক জাপানি মন্ত্রী ভারতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সমালোচনা করেন, যা ভারত দ্রুত প্রত্যাখ্যান করলেও চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তা তুলে ধরা হয়। সিডনি ও অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগের ধারা বজায় রাখতে চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণে দিল্লিকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
সূত্র: বিবিসি

এসসিও সম্মেলনে মোদি-পুতিন-শি’র করমর্দন
ভারতীয়দের বিদেশে বিয়ে-ভ্রমণ ও স্বর্ণ কেনা বন্ধের আহ্বান নরেন্দ্র মোদির 







