ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার একটি বিশাল বাজারের একটি দোকানে সিলিং থেকে ঝুলে রয়েছে প্লাস্টিকের সান্তা ক্লজের দল। চারপাশের তাকে ঘিরে সাজানো হয়েছে নানারকম বড়দিনের সাজসজ্জার সামগ্রী। যদিও বড়দিনের উৎসব উদযাপনে এখনও পুরো চার মাস বাকি, তবুও শপগুলোতে এমন দৃশ্য অত্যন্ত চেনা। ফিলিপাইনে ১ সেপ্টেম্বর মানেই রেডিও স্টেশনগুলোতে বড়দিনের গান, বাসাবাড়িতে ঝলমলে আলোকসজ্জা এবং বড় বড় শপিং মলগুলোতে জমকালো প্রদর্শনীর সূচনা।
মূলত খ্রিস্টান প্রধান এই দেশে চার মাসব্যাপী দীর্ঘ কাউন্টডাউনকে বলা হয় ‘বার মান্থস’- অর্থাৎ সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর। জুলাইয়ের ৩১ তারিখ থেকেই দোকানে বড়দিনের সামগ্রী তুলতে শুরু করেছিলেন ৭৩ বছর বয়সী সেলস ক্লার্ক কোরা লানসাঙ্গান। এএফপিকে তিনি বলেন, আমরা সুবাস পেতে শুরু করেছি। সম্প্রতি এএফপি প্রতিনিধি দোকানটি পরিদর্শনের সময় দেখেন, বড়দিনের গাছ, অর্নামেন্টস, প্লাস্টিকের রেইনডিয়ার, যিশুর জন্মস্থানের প্রতিকৃতি ও উৎসবের লণ্ঠন কেনার জন্য ক্রেতাদের প্রচুর ভিড় জমছে।
১০ হাজার পেসো বা ১৬০ ডলার বাজেট নিয়ে নিজের গাছের জন্য জরি ও নানা সাজসজ্জা কিনতে আসা ম্যানিলার ৩৩ বছর বয়সী রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ক্যাথলিন সান্তিদাদ এএফপিকে বলেন, ‘জীবন কঠিন হলেও একটি ক্রিসমাস ট্রি দেখলেই মন শান্ত হয়ে যায়’। তিনি ভিড় এড়াতে আগেভাগে কেনাকাটা করতে এসেছেন, যাতে ৩০০ পেসোর ছোট জরি থেকে শুরু করে ৮ হাজার পেসোর ক্রিসমাস ট্রিগুলোর মধ্য থেকে নিজের পছন্দমতো বেছে নিতে পারেন।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বর্ষার শেষ ভাগে এই আগমনকে আরও ভালো সময়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী মার্ক গডউইন ভিলারেয়াল। তিনি জানান, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এই উৎসব সমাজজীবনে এক ধরনের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা আনে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সেপ্টেম্বরের সময়টা মূলত সাজসজ্জার জন্য; অক্টোবরে শুরু হয় উপহার, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে পুনর্মিলনী ও বড়দিনের রাতের খাবারের জন্য টাকা জমানো। এই উৎসবে যোগ দিতে বিদেশে কর্মরত ১ লাখেরও বেশি ফিলিপিনো কর্মী দেশে ফিরে আসেন।
উৎসবে ফিলিপিনোদের কাছে বড়দিন মানে অন্তর্ভুক্তি, বিশ্বাস, আশা ও আনন্দ। ৯০টি শপিং মলের চেইন এসএম সুপারমলসের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান ম্যাথে জানান, তারা আগস্ট থেকেই বড়দিনের সাজসজ্জা শুরু করেছেন যাতে ক্রেতারা দীর্ঘ সময় ধরে এই আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
ম্যানিলার উত্তরে পাম্পাঙ্গা প্রদেশে সাম্প্রতিক বন্যায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হলেও স্টার-শেপের ‘পারোল’ বা লণ্ঠন প্রস্তুতকারকদের উৎসাহ কমেনি। ঘরের অপরিহার্য এই লণ্ঠন প্রস্তুতকারক ২৬ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিকা ডেভিড বলেন, শোরুমে পানি ঢুকেছিল বটে, তবে এই লণ্ঠনগুলো ওয়াটারপ্রুফ। বন্যা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরই মানুষ লণ্ঠন কেনা শুরু করবে।
ফিলিপাইনে এই সাজসজ্জা খোলা হয় আগামী বছরের ৬ জানুয়ারি, যেদিন যিশুর জন্য ৩ জন জ্ঞানী ব্যক্তি উপহার এনেছিলেন বলে ধরা হয়। তবে ৫১ বছর বয়সী স্কুল সুপারিনটেনডেন্ট রিকি অ্যাঞ্জেলেস জানান, পুরো খরচের উসুল করতে তিনি বছরজুড়েই নিজ বাড়ির জানালায় লণ্ঠন ও বাগানে লাইট ঝুলিয়ে রাখেন। এই কথা বলেই তিনি মুচকি হেসে আরও কিছু জিনিস কিনতে দোকানে ঢুকে পড়েন।
সূত্র: এএফপি

মা-বাবা আর ফিরবেন না, তবু পথ চেয়ে ১২ বছরের তসেরিং






