টানা ভারী বৃষ্টির পর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে রবিবারও কিছু এলাকার বাসিন্দা ঘরবন্দি ছিলেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর শনিবার ব্যাংকককে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করে নগর কর্তৃপক্ষ। এতে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো প্লাবিত হয়ে কোথাও কোথাও গাড়ি পানিতে আংশিক ডুবে যায়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বন্যাকবলিত একটি এলাকার ৩৩ বছর বয়সী বাসিন্দা অরিতা সানপোকা জানান, আশির কোঠায় থাকা তার দুই প্রতিবেশী নিচে নামতে না পারায় বাড়িতেই আটকা পড়েছেন। তার নিজের বাড়িতেও কোমরসমান পানি উঠেছে এবং ঘরের সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি জানান, নিচতলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং পানি বাড়তে থাকায় বাথরুমও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বন্যার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘরে পানি ঢোকার পাশাপাশি যান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও বাসিন্দাদের পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়েছে।
৩৭ বছর বয়সী র্যাচথানিচপর্ন লিপুট জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তার এলাকায় দ্রুত পানি বাড়তে শুরু করলে তাকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পানির মধ্য দিয়ে হাঁটতে হয়েছে। পেশায় ডেলিভারি কর্মী ওই নারী বলেন, বন্যার কারণে তার আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। আয় পুষিয়ে নিতে তিনি পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে বিক্রি করছেন।
ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিএমএ) জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত কমে এসেছে। গত কয়েকদিন ব্যাংককে প্রভাব ফেলা নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
বিএমএ জানিয়েছে, ২৩৩টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৪ হাজার ২০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে আশপাশের এলাকা থেকে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কয়েকটি প্রধান খালের পানির স্তর এখনো উঁচু রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার রাজধানীজুড়ে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।