ভারতে হায়দরাবাদের ১৫০ একরের একটি আবাসন প্রকল্পের মাঝখান দিয়ে একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের কারণে প্রায় ৮০০টি আমগাছ কেটে ফেলার সংকট তৈরি হয়। তবে গাছগুলো না কেটে অন্য একটি জমি কিনে প্রায় ছয় থেকে আট মাস সময় নিয়ে সেগুলোকে স্থানান্তর করার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন আবাসন নির্মাতা আশউইন রাও।
টাইমব অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে জহিরাবাদে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি বটগাছ সরানোর অভিজ্ঞতাই আশউইনকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করে। গাছ রক্ষা ও পুনর্রোপণে নিয়োজিত সংস্থা ভাটা ফাউন্ডেশন-এর সহায়তায় সে সময় তিনি নিজস্ব একটি খালি জায়গায় বটগাছটি স্থানান্তর করেছিলেন। সেখান থেকেই তিনি শেখেন যে, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ উপড়ে নতুন স্থানে লাগানোর ক্ষেত্রে এর শিকড়, দিক ও পরিবেশের বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে বর্ষাকালে গাছ স্থানান্তরে বেঁচে থাকার হার সবচেয়ে বেশি থাকে।
যেকোনও উন্নয়ন প্রকল্পে গাছ কাটার বদলে নতুন চারা রোপণের কথা বলা হলেও পূর্ণবয়স্ক গাছের মতো তাৎক্ষণিক সুবিধা বা কার্বন ধরে রাখার ক্ষমতা নতুন চারা দিতে পারে না। তবে বৃক্ষ স্থানান্তর একটি জটিল ও কারিগরি প্রক্রিয়া, যার সাফল্য সবসময় নিশ্চিত নয়।
ভাটা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা উদয় কৃষ্ণা ২০১০ সালে একটি নির্মাণকাজে ৪৫টি গাছ কেটে ফেলার পর থেকে বিকল্প সমাধানের খোঁজে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি একটি পথচারী-সেতু প্রকল্পের ১৬টি গাছ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন, যার মধ্যে ১৩টি বেঁচে যায়। তিনি লক্ষ্য করেন, নতুন চারা রোপণ ও তা টিকে থাকার বিষয়ে তদারকির অভাব রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা ‘গাছ দত্তক নেওয়ার’ একটি মডেল চালু করেন। সংস্থাটি ২০১৫ সাল থেকে দেশজুড়ে আট হাজার মানুষের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১৭ হাজার ৫০০টিরও বেশি গাছকে নতুন ঠিকানা খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে।
তবে পুনর্রোপণ করলেই সব গাছ বাঁচে না। ২০১৮ সালে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো দুটি উপড়ে ফেলা বটগাছ স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব ও ১০ দিন দেরি হওয়ার কারণে কেবল একটি গাছ টিকে থাকে। অন্যদিকে ২০১৭ সালে নগরকুরনুলের একটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি জঙ্গল জালেবি গাছকে সফলভাবে সোজা করে আবার দাঁড় করানো হয়, যা আজও বেঁচে আছে।
তেলেঙ্গানার দামাগুন্ডাম সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি রাডার স্টেশন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সংস্থাটি কাজ করেছে। পরিবেশবাদীদের মতে, গাছ পুনর্রোপণকে শেষ উপায় হিসেবে দেখা উচিত এবং কেবল গাছ রোপণই শেষ কথা নয়, উপযুক্ত স্থান নির্বাচন ও সঠিক পরিচর্যাই পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার মূল চাবিকাঠি।
যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড, জরুরি অবস্থা জারি
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো