চীনের পরাষ্ট্রনীতি কী বিশ্বব্যবস্থার নীরব পরিবর্তন ঘটাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৯আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৯

চীনের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্ব রাজনীতিকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে তারা নিজেদের সতর্ক বাস্তবতাবাদী অবস্থান বজায় রেখে বৈশ্বিক শাসন কাঠামোতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ বিশ্লেষণটি তুলে ধরেছে।

চীনা নেতারা, যার মধ্যে চীনা কম্যুনিস্ট পাটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হু জিনতাওও আছেন, বহুবার বলেছেন যে বেইজিংয়ের নীতি হলো ‘শান্তিপূর্ণ অগ্রগতি’ এবং অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। তারা সহযোগিতাকে সংঘাতের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তবে পশ্চিমা বিশ্লেষকরা মনে করেন, চীনের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব ও বিপুল বিনিয়োগ আসলে কৌশলগত উদ্দেশ্য আড়াল করে রাখে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে নির্ভরশীলতা তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেয়। 

চীনের কৌশল মূলত অর্থনৈতিক সহযোগীতার মোড়কে নানা ভূরাজনৈতিক হিসাব নিকাশের মিশ্রণ। ইরানে তারা স্থল করিডর তৈরি করছে, যাতে জ্বালানি ও বাণিজ্য রপ্তানির পথ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আবার সিরিয়ায় তারা পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক সমাধানকে উৎসাহ দিচ্ছে, তবে সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ছে না।

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, ইউরোপের কাছে চীন নিজেকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরছে। তারা ইউরোপকে ওয়াশিংটনের প্রভাব থেকে কৌশলগতভাবে বের হয়ে আসতে উৎসাহিত করছে। অন্যদিকে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে চীন বিনিয়োগও করছে। এসব কিছুর পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমা দেশগুলো মনে করছে চীন মূলত ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগীতামূলক জোটে ভাঙ্গন ধরাতে চায়।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে চীন আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাণিজ্যের মাধ্যমে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। এটি পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভরতার সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করছে। মেরু অঞ্চলে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমিত, কারণ স্থানীয় রাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

২০২৬ সালে এসে চীনের কূটনীতি এক ধরনের বৈপরীত্য প্রকাশ করছে। তারা প্রভাব বাড়াচ্ছে, কিন্তু সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলছে। যখন বৈশ্বিক সংকট বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি যুদ্ধাংদেহী হয়ে উঠছে, তখন বেইজিংয়ের পদক্ষেপগুলো ক্রমেই পশ্চিমা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে চায়।   

/এমবিএম/
সম্পর্কিত
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
সর্বশেষ খবর
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে:  প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি
চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের