আন্তর্জাতিক আইনের ওপরে দেশি আইন নয়: সুইস ভোটারদের সিদ্ধান্ত

বিদেশ ডেস্ক
২৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০১
image

সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত গণভোটে সুইস ভোটাররা আন্তর্জাতিক আইনকে প্রাধান্য দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। গণভোটের বিষয় ছিল, আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি থাকার ফলে সুইজারল্যান্ডের নিজস্ব আইনের ক্ষমতা খর্ব হয়ে যাচ্ছে এবং এমন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতাকে উপেক্ষা করে দেশি আইনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে কি না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক পক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি থাকায় সুইজারল্যান্ডের ডানপন্থী দলের সদস্যরা এই গণভোটের জন্য প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তারা প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের দেশ সুইজারল্যান্ডে দেশি আইনের প্রাধান্য নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক আইনের ওপরে দেশি আইন নয়: সুইস ভোটারদের সিদ্ধান্ত

রবিবার (২৫ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলের বিষয়ে সুইস ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন তাদের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রাক্কলনে জানিয়েছে, ভোটারদের ৬৩ শতাংশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের বিষয় ছিল ‘সেলফ ডিটারমিনেশন ইনিশিয়েটিভ।’ গণভোটের ডাক দিয়েছিল ডানপন্থী ‘সুইস পিপলস পার্টি’ (এসভিপি)। তারা চেয়েছিলেন, সংবিধানে এমন একটি ধারা যুক্ত করাতে যাতে আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে দেশটির কোনও আইনের সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হলে সুইজারল্যান্ডের সংবিধানই যেন প্রাধান্য পায়। যেখানে সংঘর্ষ হবে সেখানে তারা আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করবে অথবা চুক্তিই বাতিল করে দেবে।

প্রস্তাবের পক্ষে যারা প্রচারণা চালিয়েছিলেন তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইন মেনে নিতে বাধ্য হওয়ার কারণে পরিবেশ রক্ষা, বিমান চলাচল, বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের সার্বভৌম সুযোগ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বস্তুত গত কয়েক বছরে সুইজারল্যান্ডে এই প্রশ্ন বড় পরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে যে দেশটি আসলে তার সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে কি না। ইইউয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে থাকা সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে।

এসভিপি বলেছিল, প্রস্তাবটি ভোটে জিতে গেলে সুইজারল্যান্ডের নাগরিকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্তি পাবে। দলটি সুইস সংসদের সবচেয়ে বড় দল। কিন্তু তাদের মতের বিরোধিতা করে অন্যান্য রাজনৈতিক দলসহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, এই প্রস্তাব পাস হয়ে গেলে একদিকে যেমন হাজার হাজার চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে তেমনি মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি ঝুঁকিতে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে অর্থনীতিও।

ভোটের ফলাফলের বিষয়ে ইকনোমিসুইসের জ্যান অ্যাটেসল্যান্ডার বলেছেন, ‘ফলাফল দেখেই বোঝা যাচ্ছে সুইসরা তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে ভালো আছে। সেগুলো পরিবর্তনের কোনও প্রয়োজন নেই। এটা যদি পাস হয়ে যেত তাহলে তা অর্থনীতির জন্য অনেক বড় বিপর্যয় ডেকে আনত। বিশ্বে সুইজারল্যান্ডের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হতো। আমাদের উচিত আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের দেওয়া ওয়াদার বিষয়ে স্থির থাকা এবং সুসময় ও দুঃসময় উভয়ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে দাঁড়ানো।’

/এএমএ/
সম্পর্কিত
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
৫৩০০ বছর পরও মমিতে জীবিত অণুজীব
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম