নারী সুরক্ষার চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলো তুরস্ক

বিদেশ ডেস্ক
২০ মার্চ ২০২১, ১৪:৩৯আপডেট : ২১ মার্চ ২০২১, ১০:০৩
image

নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলা এবং সুরক্ষার এক চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে তুরস্ক। শুক্রবার এক প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মধ্য দিয়ে এই ঘোষণা দেয় দেশটি। এই ঘোষণাকে বড় জয় হিসেবে দেখছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পারিবারিক এবং অন্যান্য সহিংসতা থেকে নারীদের সুরক্ষায় স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে বাধ্য করতে ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত হয় ইস্তানবুল কনভেনশন। বিশ্বে এই ধরনের চুক্তি ছিলো এটাই প্রথম। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়াও ৪৫টি দেশ স্বাক্ষর করে। স্বাক্ষরকারী দেশগুলো পারিবারিক সহিংসতা, বৈবাহিক ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা থেকে নারীদের সুরক্ষা দিতে আইন প্রণয়ন করে। তবে এবার এই চুক্তি থেকে বের হয়ে গেলো তুরস্ক।

এই সিদ্ধান্তের কোনও কারণ জানায়নি তুরস্ক। তবে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন দল রক্ষণশীল একে পার্টি গত বছর চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানায়। তবে ওই সময়েই নারীর প্রতি সহিংসতা কিভাবে মোকাবিলা করা হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এক টুইট বার্তায় তুরস্কের পরিবার, শ্রম এবং সামাজিক নীতি বিষয়ক মন্ত্রী জেহরা জুমরাত বলেন, ‘নারী অধিকারের নিশ্চয়তা আমাদের আইন, বিশেষ করে আমাদের সংবিধানে রয়েছে। আমাদের বিচার ব্যবস্থা বহুমাত্রিক এবং প্রয়োজন পড়লে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য যথেষ্ট কঠোর।’

রক্ষণশীলদের দাবি, ওই চুক্তির কারণে পারিবারিক ঐক্য নষ্ট হচ্ছে, বিচ্ছেদ উৎসাহিত হচ্ছে আর এতে বর্ণিত সমতার নীতি ব্যবহার করে সমকামী সম্প্রদায় সমাজে আরও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করছে। তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে স্বাগত জানালেও এর বিরোধিতা করছে বিরোধী দল সিএইচপি।

সিএইচপি’র ডেপুটি চেয়ারম্যান গোকসে গোকেন এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো ‘নারীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে রাখা আর তাদের খুন হতে দেওয়া।’

উল্লেখ্য, তুরস্কে নারী হত্যা এবং পারিবারিক সহিংসতা মারাত্মক সমস্যা। নারীর প্রতি সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান। এই মাসেও তিনি বলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা থামাতে কাজ করবে তার সরকার। তবে সমালোচকেরা বলছেন, নারী হত্যা এবং পারিবারিক সহিংসতা থামাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি তার সরকার।

নারী হত্যার কোনও সরকারি কোনও পরিসংখ্যান রাখে না তুরস্ক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী তুরস্কের ৩৮ শতাংশ নারী তার সঙ্গীর কাছ থেকে সহিংসতার শিকার হয়। অথচ বাকি ইউরোপে এর পরিমাণ ২৫ শতাংশ।

/জেজে/বিএ/
সম্পর্কিত
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
৫৩০০ বছর পরও মমিতে জীবিত অণুজীব
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের