মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনি কমিউনিটির কিছু সদস্য। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন তারা। তবে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতে ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকায় তারা ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনি কমিউনিটির একটি দল বলেছেন, ‘এই সময়ে এই ধরনের একটি সাক্ষাতের আমন্ত্রণ অপমানজনক।’ তারা আমন্ত্রিত সংখ্যাগরিষ্ঠদের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আরব, ফিলিস্তিনি এবং মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধি কর্মীরাও গাজা সংঘাতে ওয়াশিংটনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, চলমান এই সংঘাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বর্বর হামলায় অঞ্চলটিতে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা গাজার মোট জনসংখ্যার এক শতাংশেরও বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে সেখানে ২৩ লাখ মানুষের বসবাস ছিল।
৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার প্রতিক্রিয়ায় ওইদিনই গাজায় নির্বিচারে পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। হামাসের ওই হামলায় ইসরালের এক হাজার ২০০ সেনা নিহত হন। এসময় প্রায় ৩৪০ জনের বেশি জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায় প্রতিরোধ যোদ্ধারা।
ব্লিঙ্কেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ইঙ্গিত করে বৃহস্পতিবারের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, তারা প্রতিদিনই আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন তাদের কাছে কাদের জীবন মূল্য অনেক বেশি আর কাদেরটা তুচ্ছ। আমরা নাম মাত্র কোনও আলোচনায় অংশ নেব না যেটি কোনও ফল বয়ে আনবে না।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা মনে করি, ইসরায়েলি এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওয়াশিংটন জড়িত আছে।
গাজার মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেখানে অসহায় নাগরিকরা অনাহারে ভুগছেন। জাতিসংঘ সেখানে মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এর বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, যুদ্ধবিরতি দেওয়া হলে হামাস আবারও পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ব্লিঙ্কেন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনি কমিউনিটির ‘কয়েকজন নেতা’র সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে ঠিক কতজনের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেখা করেছেন তা খোলাসা করেননি তিনি।
গাজায় একটি যুদ্ধবিরতির দাবিতে প্রায় পুরো দেশজুড়ে প্রতিবাদ করছেন বিক্ষোভকারীরা। সম্প্রতি তারা দেশটির বিমানবন্দরের কাছে, নিউইয়র্ক সিটির সেতুতে, লস এঞ্জেলসে, হোয়াইট হাউজের বাইরে এবং ওয়াশিংটনেও বিক্ষোভ-মিছিল করেছে। এমনকি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাইডেনের দেওয়া ভাষণ ও ক্যাম্পেইন ইভেন্টেও প্রতিবাদ করেছেন তারা। এরমধ্যে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মিশিগানে প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে।







