X
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪
১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত পূর্বে ইউক্রেনে কেমন আছে প্রতিবন্ধী ইভান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২৩:০২আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২৩:০২

পূর্ব ইউক্রেনে এক দল প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে বাস করছে ইভান। ১৬ বছর বয়সী এই প্রতিবন্ধী কিশোরের জন্য সেখানে থাকা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে বসবাস করা সবাই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে বেজ ইউএ নামের একটি সমন্বিত সংস্থা। এখানে যুদ্ধাহত, মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধীসহ সেচ্ছাসেবীরা থাকেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তাদের জীবন কেমন চলছে তা তুলে ধরেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইউক্রেনের ডনেস্ক অঞ্চলের ক্রামতোর্স্ক রায়ওন জেলার একটি গ্রাম তেতিয়ানিভকা। সেখানেই বাস করে ১৬ বছর বয়সী ইভান। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রথম বছরেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রামটি। এই গ্রামের প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই কামানের গোলা আঘাত করেছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, গ্রামের ৭৫০ জনের মধ্যে এখন ২০০ জনেরও কম বাসিন্দা আছেন।

বেজ ইউএ ইউক্রেনের স্বেচ্ছাসেবকদের একটি যৌথ সংগঠন। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মধ্যে যোগাযোগ ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করাই এর কাজ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন না স্বেচ্ছাসেবীরা। গত আট মাস ধরে সপ্তাহে দুবার এক বা দুই ঘণ্টার জন্য শিশুদের সঙ্গ দেখা করতে আসতে পারেন তারা। স্বেচ্ছাসেবীরা এসে ইভানের সঙ্গে সময় কাটান।

২০২২ সালের বেশিরভাগ সময় তেতিয়ানিভকা গ্রামের কাছাকাছি ছিল রুশ বাহিনীর ক্যাম্প। তাদের মাঝখানে একটি নদী ছিল। তার ওপারেই চলতো অবিরত গুলিবর্ষণ। এতে ইভান খুব ভয় পেত। গোলাগুলির সময় ইভান খুব আতঙ্কিত হয়ে যেতো। ঘুমাতে পারতো না। সেসময় ৭৬ বছর বয়সী দাদি ওলেনা মার্টিনেনকোকে শুধু ডাকতো।

ওই বছর গ্রীষ্মকালে রুশ আগ্রাসনের কারণে মার্টিনেনকো, ইভান ও তার মা-সহ অনেকেই বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হন। তাদেরকে ডিনিপ্রো শহরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বেশ কয়েক মাস ছিলেন তারা।

তারপর শরৎকালে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণে রুশ বাহিনী পিছিয়ে গেলে তারা আবার ফিরে আসেন। ক্ষতবিক্ষত একটি বাড়িতে ফিরে আসেন তারা। তাদের বাড়ির ছাদ ধসে গেছে। বাড়ির জানালা উড়ে গেছে। এমন বাড়িতে ফিরে আসলেন ইভানের পরিবার।

ঘর-বাড়ি হারা মানুষ। কোনও টাকাপয়সাও নেই। কিন্তু কিছু খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা দরকার। তখন মার্টিনেনকোর সামান্য পেনশন এবং ইভানে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা দিয়ে কিছু জিনিসপত্র কিনে ইভানের পরিবার।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইভানের খালার একটি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। তাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন। তাছাড়া সেখানে একটি মাত্র গণপরিবহন আছে। যা সপ্তাহে একবার আসে।

এসব সমস্যা থাকা সত্ত্বেও ইভানের পরিবার গ্রাম ছেড়ে যেতে চাচ্ছে না। নতুন পরিবেশে থাকা ইভানের জন্য কঠিন ছিল। তাই ইভান তার দাদিকে বলে, যত সমস্যাই হোক না কেন, যদি রুশ বাহিনী গুলিও চালায় তবুও বাড়ি ছেড়ে যাবো না।

 

/এসএইচএম/
সম্পর্কিত
গাজায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে ক্ষুধার্ত শিশুরা
ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের ৩৮টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি রাশিয়ার
বৃষ্টি ও ভূমিধসে অচল পাকিস্তানের তিন প্রদেশ
সর্বশেষ খবর
আদালতে ড. ইউনূস
আদালতে ড. ইউনূস
গাজায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে ক্ষুধার্ত শিশুরা
গাজায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে ক্ষুধার্ত শিশুরা
আজকের আবহাওয়া: দুই বিভাগে বৃষ্টির আভাস
আজকের আবহাওয়া: দুই বিভাগে বৃষ্টির আভাস
বেইলি রোডে আগুন: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
বেইলি রোডে আগুন: বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট
সর্বাধিক পঠিত
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিএসসি পাস মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিএসসি পাস মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ
স্কুলে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হতে পারেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হতে পারেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা: শিক্ষামন্ত্রী
ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ‘এএমপিএম’, পলাতক কর্মকর্তারা
বেইলি রোড ট্র্যাজেডিব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ‘এএমপিএম’, পলাতক কর্মকর্তারা
বিদেশের সম্পদ দেশের টাকায় করিনি: সাবেক ভূমিমন্ত্রী
বিদেশের সম্পদ দেশের টাকায় করিনি: সাবেক ভূমিমন্ত্রী
বেইলি রোডের ট্র্যাজেডি নিয়ে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের বিবৃতি
বেইলি রোডের ট্র্যাজেডি নিয়ে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের বিবৃতি