ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, রাশিয়ার কুরস্ক সীমান্ত অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন উত্তর কোরীয় সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিইউআর সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, কুরস্ক অঞ্চলের প্লেখোভো, ভোরোবঝা ও মার্টিনোভকা গ্রামগুলোর কাছে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন উত্তর কোরীয় সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। এছাড়া, কুরিলোভকা গ্রামের কাছ থেকে অন্তত তিনজন উত্তর কোরিয়ার সেনা নিখোঁজ রয়েছেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার ইউক্রেনীয় বাহিনীর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইঙ্গিত রয়েছে যে উত্তর কোরিয়ার সেনারা কুরস্ক অঞ্চলে নিহত ও আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আল জাজিরার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার কথা বলা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পায়নি সংবাদমাধ্যমটি।
দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের মতে, আনুমানিক ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনাকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। তাদের বেশিরভাগকেই কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। গত আগস্টে কিয়েভের একটি অভিযানের পর অঞ্চলটির আংশিক নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের হাতে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সেনারা যুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাব এবং ভাষাগত সমস্যার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। যদিও তাদের এই মোতায়েন আনুষ্ঠানিকভাবে পিয়ংইয়ং বা মস্কো স্বীকার করেনি, তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই দুই দেশের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯ জুন পিয়ংইয়ংয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় সই হওয়া একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশ একে অপরকে সামরিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইউক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে রাশিয়া বিদেশি যোদ্ধাদের ওপর নির্ভর করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপাল, ভারত ও শ্রীলঙ্কার পুরুষদের ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে এবং প্রাপ্য বেতন থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে।
এ বছর নেপালের কিছু পুরুষ আল জাজিরাকে জানান, সামরিক প্রশিক্ষণের অভাব থাকায় তারা মনে করেছিলেন ব্যাকআপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু তাদের সম্মুখযুদ্ধে ঠেলে দেওয়া হয়।
রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই তাদের সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশে সাধারণত বিরত থাকে। রুশ সংবাদমাধ্যম মিডিয়াজোনা জানিয়েছে, ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার রুশ সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ দাবি করেছে, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলার পর থেকে ৬ লাখ ৫৪ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কিয়েভ প্রায় পাঁচ লাখ সেনা হারিয়েছে। তবে এ নিয়ে বিতর্ক চলছে এবং সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন।









