যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদে এবং ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালিড কমান্ডার ইউরোপ পদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ঐতিহ্যগতভাবে এই পদে একজন মার্কিন জেনারেল দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ গত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প ইউরোপকে তার নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। এতে ন্যাটোয় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
গ্রিনকেভিচের এই নিয়োগ চূড়ান্ত করতে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তিনি বর্তমানে পেন্টাগনে জয়েন্ট স্টাফের পরিচালনা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর ন্যাটো বাহিনীর দায়িত্ব নেওয়া জেনারেল ক্রিস্টোফার কাভোলির স্থলাভিষিক্ত হবেন গ্রিনকেভিচ। কাভোলি ইউক্রেনকে সহায়তায় বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহযোগিতা তদারকি করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে চাপ দিচ্ছে। বর্তমানে জিডিপির ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য থাকলেও ট্রাম্প চাইছেন এই হার ৫ শতাংশে উন্নীত হোক। যদিও এখন পর্যন্ত কোনও দেশই এই লক্ষ্য পূরণে পৌঁছায়নি, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও নয়।
ন্যাটো সদর দফতরে এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, সকালের বৈঠকে যা শুনেছি, তাতে আমি আশাবাদী। অনেক দেশই ইতোমধ্যে ২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে এবং আমরা প্রায় ৫ শতাংশ লক্ষ্যে একমত হওয়ার কাছাকাছি চলে এসেছি।
১৯৫১ সালে প্রথম এই পদে ছিলেন মার্কিন জেনারেল ডুইট ডি. আইজেনহাওয়ার। ইউরোপে ন্যাটোর সব অভিযান তদারকি করা এই পদের দায়িত্ব অনেকটাই প্রতীকি হলেও এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ন্যাটোর একীভূত প্রতিরক্ষা পুনর্গঠনের সময়ে তা আরও গুরুত্বপূর্ণ।









