গাজায় ইসরায়েলে যুদ্ধ নিয়ে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসপার ফেল্ডক্যাম্প। শুক্রবার স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি জানান, সরকারের ভেতরে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রস্তাবে সমর্থন পাননি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ফেল্ডক্যাম্প বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আমি তুলেছিলাম। কিন্তু মন্ত্রিসভায় তাতে বাধার সম্মুখীন হয়েছি। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।
৩ জুন ডাচ সরকার ভেঙে পড়ার পর থেকে দেশটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সংখ্যালঘু সরকার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। আগামী অক্টোবরের নির্বাচনের পর নতুন জোট সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে থাকবে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফেল্ডক্যাম্পের পদত্যাগের দিনই জাতিসংঘের সহায়তায় পরিচালিত বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, গাজা সিটি ও এর আশপাশে মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষের মধ্যে রয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কয়েক লাখ মানুষ অনাহার ও অপুষ্টিতে মৃত্যুর ঝুঁকিতে। ইসরায়েল অবশ্য এই মূল্যায়নকে ভুয়া ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এরই মধ্যে গাজা সিটিতে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের লক্ষ্য হলো শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, বেসামরিক মানুষদের দক্ষিণে সরিয়ে দেওয়া, হামাসকে ভেঙে ফেলা এবং জিম্মিদের মুক্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করা।
অন্যদিকে, দখলকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাবে এবং ফিলিস্তিনিরা যেটিকে স্বাধীন রাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে চান, তা আরও খণ্ডিত হয়ে পড়বে।
নেদারল্যান্ডস দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার পক্ষে কণ্ঠ তুলেছে। গাজা সংকটে সরকারের নীতির বিরোধিতা করে ফেল্ডক্যাম্পের পদত্যাগ দেশটির রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করল।








