মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রশমিত করতে উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে কাজ শুরু করেছে পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটো। সোমবার ক্রোয়েশিয়া সফরকালে জোটের প্রধান মার্ক রুটে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মার্ক রুটে বলেন, বর্তমানে আমরা যৌথভাবে আর্কটিক অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষায় পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে কাজ করছি। ৩২টি দেশের এই জোটের প্রধান আরও জানান, বরফ গলে নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হওয়ায় সেখানে রাশিয়া ও চীনের তৎপরতা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ন্যাটোর সব সদস্য দেশই আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার গুরুত্বের বিষয়ে একমত।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি ন্যাটোর ভেতর বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ট্রাম্পের দাবি, চীন ও রাশিয়ার প্রভাব ঠেকাতে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতে থাকা জরুরি।
ইউরোপীয় নেতারা অবশ্য ডেনমার্কের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র কোনও ধরনের সশস্ত্র হামলা চালালে তা ন্যাটোর অস্তিত্বই শেষ করে দেবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
ন্যাটো কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে নতুন কোনও মিশন চালুর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত প্রস্তাব আসেনি।
এদিকে, জোটের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি করলেও ট্রাম্প উল্টো দাবি করেছেন, তিনি ন্যাটোকে আরও শক্তিশালী করেছেন। ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়াতে বাধ্য করার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমিই ন্যাটোকে বাঁচিয়েছি!’








