ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ঘিরে পশ্চিমা জোটে টানাপোড়েন যখন তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটেই বুধবার বেইজিং সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এই সফরের মূল লক্ষ্য চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
চীনে যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্টারমার বলেন, “চীনের বিষয়ে বালিতে মাথা গুঁজে রাখার কোনও মানে নেই। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এখন আমাদের স্বার্থেই জরুরি।” সফরটিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেই বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
৫০ জনের বেশি শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাকে সঙ্গে নিয়ে স্টারমার বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। শুক্রবার তিনি সাংহাইয়ে গিয়ে স্থানীয় নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, যেখানে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে যেকোনও একটিকে বেছে নিতে হবে, এমন দাবি নাকচ করে স্টারমার বলেন, “আমি একজন বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। একজন ব্রিটিশ বাস্তববাদী হিসেবে আমার যা করা দরকার, আমি তাই করছি।”
এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন গ্রিনল্যান্ড, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ এবং ন্যাটোর ব্যয় ভাগাভাগি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের টানাপোড়েন বেড়েছে। একই সঙ্গে, বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হলে কানাডার পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকির কয়েক দিনের মধ্যেই এই সফর হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হংকংয়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা দমন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে চীনের সমর্থন এবং ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে চীনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের কারণে লন্ডন ও বেইজিংয়ের সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।








