ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) তাদের ভারতীয় তিন সদস্যকে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নাশকতা চালানোর উস্কানি দিয়েছিল। সম্প্রতি ভারতীয় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি(এনআইএ) এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া এনআইএ’র ওই বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভারতীয় আইএসের তিন সদস্য আশিক আহমদ, মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ ও মোহাম্মদ আফজালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী ওই তিনজন জানিয়েছেন, আইএস ভারতীয় শাখার প্রধান শফি ওমর ওরফে আহমদ আলী তাদেরকে কানহাইয়া মুক্তির আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য বলেছিলেন। যানবাহন ও তেলের ট্যাঙ্কারে পেট্রোল দিয়ে অগ্নিসংযোগ করতেও বলা হয়েছিল তাদের।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, ভেনিজুয়েলায় জরুরি অবস্থা
ফেব্রুয়ারিতে জেএনইউতে আফজাল গুরুর ফাঁসির বার্ষিকীতে এক বিতর্কিত অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টি ছাত্র সংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়সহ ভারতজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে এনআইএ সন্দেহভাজন আশিককে গ্রেফতার করে। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র আশিক। পানাগড় সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি একটি বেসরকারি ছাত্রাবাস থেকে আশিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে আশিক জানান, ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রিলিয়ন নামক অ্যাপসের মাধ্যমে আশিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শফি ওমর। আশিক বলেছেন, ‘তিনি আমাকে বলেন দেশজুড়ে ছাত্রদের আন্দোলন চলছে। আমাদের আন্দোলনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে যানবাহন ও তেলের ট্যাঙ্কারে অগ্নিসংযোগ করতে হবে।’ আশিক আরও বলেন, ‘আমিতাকে (শফি) একটি পিস্তল দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। তখন তিনি আমাকে হুগলির নিকটবর্তী একটি মন্দিরের ছবি পাঠান। মন্দিরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাকে খুশি করতে বলেন।’
আরও পড়ুন: পুতিনের আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে প্রতিবেদন, পদত্যাগে বাধ্য হলেন ৩ সম্পাদক
আশিক দাবি করেন, হিন্দু বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তিনি জিহাদের পথ বেছে নেন। তিনি রাজা দাস নামের এক ব্যক্তির অধীনে কাজ করছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গে আইএসের একটি শাখা গঠনের চেষ্টা করছিলেন।
উল্লেখ্য, ৯ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের স্বাধীনতাপন্থী হিসেবে পরিচিত আফজাল গুরুর ফাঁসির বিরোধিতা করে অনুষ্ঠান আয়োজন ও তাতে দেশবিরোধী বক্তব্য ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এরপর দেশদ্রোহিতার অভিযোগে ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি বামপন্থী ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারকে। ২৩ ফেব্রুয়ারি উমর খালিদ ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে এসে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্ট তাদের তিনজনকেই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। সূত্র: হাফিংটন পোস্ট।
/এএ/বিএ/







