উত্তর প্রদেশের মথুরা নগরীর জওহরবাগের বাসিন্দারা মথুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকুল দ্বিবেদীকে অপহরণ করতে চেয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যেই তাকে আঘাত করেছিল তারা। কিন্তু পুলিশের আক্রমণের ফলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। কিন্তু তার আগেই গুরুতর আঘাতের ফলে এসপি মুকুল কোমায় চলে যান ও কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, পাথর ছুড়ে মাথায় আঘাত করা হলে এসপি মুকুল অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান। সে সময় তাকে লাঠি ও লোহার শিক দিয়ে নির্মমভাবে প্রহার করে দলটি।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ওরা তাকে টেনে নিজেদের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেই।’
উত্তর প্রদেশ পুলিশের মহাপরিচালক জাভেদ আহমেদ বলেন, ‘পুলিশবাহিনীর সঙ্গে এভাবে সংঘাতে লিপ্ত হওয়ায় প্রমাণিত হয়, তারা প্রশিক্ষিত। যুদ্ধের কৌশল তাদের ভালোই জানা আছে। গাছের আড়াল নিয়ে তারা পুলিশের ওপর গুলি চালায়।’
তিনি আরও জানান, তারা আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে নারী ও শিশুদের ব্যবহার করায় ক্যাম্পে পৌঁছেও পুলিশ সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, স্বঘোষিত বিপ্লবী দল ‘স্বাধীন ভারত বৈদিক সত্যাগ্রহ’ ২০১৪ সাল থেকে নগরীর জওহরবাগ অঞ্চলে ২৬০ একর ভূমি নিয়ে এক পৃথক ব্যবস্থা চালু করেছে। যেখানে বাইরের মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। সেখানে নিজেদের বিচারব্যবস্থা, সংবিধান, কারাগারসহ নানা রকম যোদ্ধা বাহিনীও রয়েছে। নিজেদের তারা নেতাজি সুভাষ বন্দ্র বসুর অনুসারী বলেও দাবি করে থাকে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এই গোষ্ঠীর প্রায় ৩ হাজার সদস্য কর্তৃপক্ষের এক উচ্ছেদ তৎপরতা প্রতিরোধ করতে পুলিশের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ায়। এতে দুই উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২৪ জন নিহত হয়। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আরও পড়ুন:
/ইউআর/এএ/








