ইরানের তেল আমদানি বন্ধ করবে না ভারত

বিদেশ ডেস্ক
০৪ জুলাই ২০১৯, ০৭:০৮আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ০৭:০৯

পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বিরোধের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইরানের আমদানি অব্যাহত রাখবে ভারত। বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি. মুরালিধরন লোকসভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।

ইরানের তেল আমদানি বন্ধ করবে না ভারত

গত নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন যখন নতুন করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপায়, তখন ভারতসহ আটটি দেশকে ইরান থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি বছর মে মাসে সেই অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ইরান যাতে পাকিস্তান বা চীনের দিকে বেশি না ঝোঁকে, সেটাও ভারত নিশ্চিত করতে চায়। ফলে একদিকে সস্তা তেল, চাবাহার ও ইরানের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক আর অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে দিল্লিকে।

ইরানের তেল কেনাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে তেহরানের কাছ থেকে নয়াদিল্লির তেল আমদানি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় বুধবার লোকসভার অধিবেশনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভারত কি ইরানের আমদানি বন্ধ করবে বা চালিয়ে যাবে না। জবাবে মন্ত্রী বলেন, না।

সম্পূরক প্রশ্নে কংগ্রেস নেতা আন্তো অ্যান্থনি জানতে চান, এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও চাপ রয়েছে কিনা সরকারের উপর। এই প্রশ্নের জবাবে মুরালিধরন বলেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিজেদের স্বার্থেই এবং তৃতীয় কোনও দেশ দ্বারা এটা প্রভাবিত না।

২০১৫ সালে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য ইরানের সঙ্গে বিশ্বের শক্তিশালী কয়েকটি দেশের চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে, ইরান শুধু শান্তিপূর্ণ প্রকল্পে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তার বদলে বিশ্ব শক্তিগুলো ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং দেশটির ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। আগস্টের ছয় তারিখে ইরানের ওপর যেসব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তাদের বেশ কয়েকটি আগামী নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। মে মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছিলেন, ভারত শুধুমাত্র জাতিসংঘের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাকেই সমর্থন করবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ভারতের পক্ষে সেখানকার আর্থিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্যতা পেতে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হবে।

ইরানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কেনে চীন। আর ভারত তার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। মার্কিন অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেতে ভারত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদে প্রতি মাসের জন্য এক কোটি ১২ লাখ ব্যারেল তেল কম কেনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। জুন মাসের ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নভেম্বর থেকে ইরানি তেলের আমদানি বিপুলভাবে হ্রাস পেতে পারে। এমন পরিস্থিতির আঁচ করতে পেরে এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে ভারত ইরানি তেল আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছিল।

/এএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম