ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। তার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের দেখা করা অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বুধবার ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে এ কথা জানিয়েছেন তার মেয়ে ইলতিজা জাবেদ। জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর গত সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে। গত রবিবার মধ্যরাত থেকেই গৃহবন্দি ছিলেন তিনি।
ভারতীয় সংবিধানের যে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে কাশ্মিরকে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিলো, গত সোমবার সেটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওইদিন (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ ঘোষণা দেন তিনি। পরে ভারত শাসিত কাশ্মিরে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ ও কারফিউ জারির মধ্যে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বিরোধীদের তীব্র বাধা ও বাগ-বিতন্ডার মধ্যেই জম্মু-কাশ্মির রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত দুইটি অঞ্চলে পরিণত করার বিলটি পাস হয়। গ্রেফতার করা হয় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, নির্বাচিত রাজনীতিবিদকে। পরে গত মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায়ও বিলটি পাস হয়।
ইলতিজা জাবেদ বলেন, ‘গতকাল (৬ আগস্ট) তার মাকে (মেহবুবা মুফতি) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হরি নিবাস নামে পরিচিত সরকারি গেস্টহাউজে তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমাদের তার সংস্পর্শে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। দেখা করতে দেওয়া হয়নি। টেলিফোন ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে’। মোবাইল ও টেলিফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় অডিও বার্তার মাধ্যমে এনডিটিভিকে এ তথ্য জানান ইলতিজা।
ইলতিজা বলেন, মেহবুবাকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। আমার মার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও আইনজীবীদের দেখা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এটা শুধু আমার মায়ের সঙ্গে করা হচ্ছে তা নয়, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহর সঙ্গেও একই আচরণ করা হচ্ছে। আমি মনে করি, ভারত সরকার বুঝে গেছে তারা অন্যায় করেছে। তারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে অপরাধী ও দুর্বৃত্তের মতো ব্যবহার করছে।
জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ সুবিধা বাতিলের পর গত সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যটির দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে। কাশ্মিরের পিপলস কনফারেন্সের দুই নেতা সাজ্জাদ লোন এবং ইমরান আনসারিকেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গত রবিবার মধ্যরাত থেকেই গৃহবন্দি ছিলেন তারা। পরে গত সোমবার মেহবুবাকে কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরের কাছে সরকারি গেস্টহাউজে নেওয়া হয়।
গতকাল (৬ আগস্ট) পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে জম্মু-কাশ্মিরকে পুনর্গঠন বিল উপস্থাপনের সময় উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাস হওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটা ভারতের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত।







