ভারতের উত্তরাখণ্ডে হিমবাহ ধসের জেরে ঋষিগঙ্গা নদীর গতিপথে একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছে। নদীর গতিপথে হিমবাহের ধ্বংসাবশেষ আটকে সেটি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি স্যাটেলাইট চিত্রে শনাক্ত হওয়া এ হৃদটিকে বিপজ্জনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, যে কোনও সময় হ্রদের বাঁধ ভেঙে আবারও হুড়মুড়িয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়বে বানের পানি। স্রোতের তোড়ে ভেসে যাবে আরও অনেক কিছু। বিপর্যয় কীভাবে এড়ানো যায়, সেই নিয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিল বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) উত্তরাখণ্ডে হিমবাহ ধসের ঘটনায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। আকস্মিক এ ঘটনার পর স্রোতের তোড়ে ভেসে যান অনেকে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকলেও এখনও ২০০ মানুষ নিখো৭জ রয়েছেন। সুড়ঙ্গে আটকে আছেন ৩৬ শ্রমিক। রবিবারে ধসের জেরে গতিপথে পলি, বালি আটকে বাঁধ তৈরি হয়েছে। সেখানে পানি জমে তৈরি হয়েছে হ্রদ।
চালকবিহীন চপার থেকে ওই হ্রদের ছবি, ভিডিও তোলা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, হ্রদের দৈর্ঘ্য একটি ফুটবল মাঠের তিন গুণ। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ঋষিগঙ্গা নদীর গতিপথে হ্রদটি তৈরি হয়েছে। এই ঋষিগঙ্গা খরস্রোতা রন্তি নদীর জলধারায় পুষ্ট। এই দুই নদীর মিলিত ধারা তপোবন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হ্রদে পানির পরিমাণ প্রচুর বেড়ে গেলে তার দেয়ালে প্রচণ্ড চাপ পড়বে। সেই চাপে দেয়াল ভেঙে গেলে বিপুল জলরাশি প্রবল বেগে ধেয়ে আসবে। তাতে ফের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ২০১৩ সালের কেদারনাথ বিপর্যয়ের মতো বড়সড় দুর্ঘটনাও হতে পারে। ওই বিপর্যয়ে মারা গেছিলেন প্রায় পাঁচ হাজার জন।
এনডিআরএফ–এর পরিচালক এসএন প্রধান জানিয়েছেন, এর মধ্যেই তাদের একটি দল পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গেছে। এদিন সকালে আরও একটি দলকে চপারে করে ওই হ্রদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চালকবিহীন চপার, ড্রোনও পাঠানো হয়েছে ছবি তোলার জন্য। অবস্থা বিচার করে যথাযোগ্য পরিকল্পনা করা হবে।








