ভারতে এয়ার ইন্ডিয়ার যে বিমানটি গত মাসে গুজরাটের আহমেদাবাদে বিধ্বস্ত হয়েছিল, সেই বিমানের দুই পাইলটের শেষ কথোপকথনের ককপিট রেকর্ডিং পাওয়া গেছে। ওই রেকর্ডিংয়ে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ক্যাপ্টেন নিজেই উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহের সুইচ বন্ধ করে দেন। বুধবার (১৬ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের সময় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি ওড়াচ্ছিলেন সহ-পাইলট বা ফার্স্ট অফিসার। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই অপেক্ষাকৃত অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেনকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি জ্বালানির সুইচগুলো ‘কাট-অফ’ অবস্থায় দিয়েছেন। সে সময় ফার্স্ট অফিসার আতঙ্ক প্রকাশ করেন। তবে ক্যাপ্টেন তখনও শান্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সেদিনের দুই পাইলট হলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সভারওয়াল এবং ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্ডার। তাদের যথাক্রমে ১৫ হাজার ৬৩৮ ঘণ্টা এবং ৩ হাজার ৪০৩ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল। বিমানে থাকা ২৪১ জন যাত্রীর সঙ্গে তারা দুজনও নিহত হন। এছাড়া ভূমিতে আরও ১৯ জন নিহত হন। মাত্র একজন যাত্রী ওই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ভারতের এয়ারক্র্যাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) প্রকাশিত এক প্রাথমিক প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে বলেছে, উড্ডয়নের ঠিক পরপরই ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহের সুইচগুলো মাত্র ১ সেকেন্ডের ব্যবধানে ‘রান’ (চালু) থেকে ‘কাট-অফ’ (বন্ধ) অবস্থায় চলে যায়। তবে কীভাবে সুইচগুলো পাল্টে গেলো সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। উড্ডয়নের মাত্র ৩২ সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য থেকে মনে হচ্ছে ক্যাপ্টেনই সুইচ বন্ধ করেছিলেন। তবে এটি ইচ্ছাকৃত ছিল নাকি দুর্ঘটনাক্রমে—সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
উড্ডয়নের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই উড়োজাহাজের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ‘র্যাম এয়ার টারবাইন’ নামে একটি বিকল্প জ্বালানির উৎস চালু হয়ে গেছে। এটি ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লন্ডনগামী উড়োজাহাজটির গতি কমতে থাকে। ৬৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর সেটি গতি কমে নিচে নামতে শুরু করে।
দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি সুইচ আবার ‘রান’ করা বা চালু করা হয় এবং উড়োজাহাজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইঞ্জিন দুটি পুনরায় সচল করার চেষ্টা করে বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী কিন্জারাপু রাম মোহন নাইডু গত সপ্তাহে বলেন, এটি কেবল প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে করা প্রতিবেদন। চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, এখানে টেকনিক্যাল বিষয় জড়িত রয়েছে। এখনই মন্তব্য করা খুব তাড়াহুড়া হবে। প্রাথমিক প্রতিবেদন এসেছে ঠিকই। কিন্তু আমাদের কংক্রিট কিছু না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ভারতীয় পাইলটদের ফেডারেশনের সভাপতি সি. এস. রণধাওয়া ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে নিন্দা জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে কোথাও বলা হয়নি যে পাইলটের ভুলে ফুয়েল সুইচ বন্ধ হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, তারা নিজেদের সব বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের লকিং মেকানিজম নিয়ে সতর্কতামূলক পরিদর্শন চালিয়েছে এবং কোনও সমস্যা পাওয়া যায়নি।









