পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধনে সবচেয়ে বেশি ভুয়া ভোটারের নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ভুয়া ভোটার নাম মুছে দেওয়ার আবেদনগুলোর মধ্যে সর্বাধিক এসেছে সীমান্তবর্তী এই জেলা থেকে।
মুখ্য নির্বাচন দফতরের এক আধিকারিকের মতে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলো- মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কোচবিহারে নতুন ভোটার রেজিস্ট্রেশনের হার সবচেয়ে বেশি।
এ বছর নির্বাচন কমিশনে প্রায় ১০ লাখ আবেদন জমা পড়েছে ভোটার নিবন্ধনের জন্য। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ গ্রহণযোগ্য। আর ২ লাখের বেশি বাতিল হয়েছে।
শীর্ষ তালিকায় রয়েছে মুর্শিদাবাদ, যেখানে ৪৪.৮৮ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে। এর পাশাপাশি মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, নদিয়া, কোচবিহারেও বিপুল আবেদন জমা পড়েছে। গত তিন মাসে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকাভুক্তি ৯ গুণ বেড়েছে।
কমিশনের রেকর্ড অনুযায়ী, মার্চ থেকে মে পর্যন্ত নতুন ভোটার আবেদন ছিল ২ লাখ ৩৩ হাজার ১৩০টি। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত আবেদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬টি। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী জেলা থেকেই এসেছে প্রায় ৫৮ শতাংশ আবেদন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমান্তবর্তী জেলার জনসংখ্যার পরিবর্তিত সমীকরণ সরাসরি রাজ্যের ভোটব্যাংক রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে।
এনিয়ে বিজেপির অভিযোগ, শাসক দল ভুয়া ভোটার যুক্ত করছে ভোটব্যাংকের স্বার্থে। তাদের বক্তব্য, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে।’
অপরদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি অকারণে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা কমিশনের কাজ, বিজেপি পরাজয়ের ভয়ে মিথ্যা প্রচার করছে।
বামফ্রন্টের মন্তব্য, ভুয়া ভোটার যেমন গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি রাজনৈতিক স্বার্থে গুজব ছড়ানোও সমান ক্ষতিকর। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আধার কার্ডের সঙ্গে সংযুক্তি ও বাড়ি বাড়ি যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে, যাতে প্রকৃত ভোটার ছাড়া অন্য কারও নাম তালিকায় না থাকে।







