তামিলনাড়ু বিধানসভায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধিকে কোনও প্রথাগত সম্মানসূচক উপাধি ছাড়া সরাসরি নাম ধরে ডাকার ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। সোমবার (১৭ আগস্ট) এক মন্ত্রীর দেওয়া এই মন্তব্যের পর বিরোধী দল ডিএমকে শিষ্টাচার ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ শুরু করলে তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সমাধান করেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
বনমন্ত্রী আরভি রঞ্জিত কুমার ডিএমকের এই অভিভাবকতুল্য প্রয়াত নেতাকে ‘কালাইঙ্গার’ বা ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রী’ শব্দগুলো ব্যবহার না করে কেবল ‘করুণানিধি’ বলে সম্বোধন করেন। এতে সভাকক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ৫২ বছর বয়সী অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজয় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বিধানসভায় বলেন, সাবেক এই নেতাকে যেভাবে সম্বোধন করা হয়েছে তা অনুচিত ছিল। আমি তার (মন্ত্রীর) পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
স্বাস্থ্য ও রাজস্ব বিভাগের অনুদান সংক্রান্ত এক বিতর্কের সময় এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। রঞ্জিত কুমার তার বক্তব্যে অতীতের ‘ভোটের বদলে টাকা’ দেওয়ার রীতির সমালোচনা করেন। বহুল বিতর্কিত তিরুমঙ্গলম ফর্মুলার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, আগের নির্বাচনগুলোতে তার কাঞ্চিপুরম আসনে প্রতি ভোটের জন্য দেড় হাজার রুপি পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছিল।
বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে অতীতের সেই নির্বাচনগুলোর তুলনা করে বনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কোনও অর্থ বিতরণ ছাড়াই ক্ষমতায় এসেছে।
তবে অতীতের এসব নির্বাচনী কৌশলের তালিকা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ডিএমকের প্রয়াত কাণ্ডারিকে কেবল ‘করুণানিধি’ নামে সম্বোধন করেন। এটি তামিলনাড়ু বিধানসভার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের পরিপন্থী, যেখানে সম্মানিত নেতাদের সর্বদা প্রাতিষ্ঠানিক প্রোটোকল ও সম্মানসূচক উপাধিসহ সম্বোধন করার নিয়ম রয়েছে।
শব্দটি বাদ পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাবেক মন্ত্রী কেকেএসএসআর রামচন্দ্রনের নেতৃত্বে ডিএমকে সদস্যরা প্রতিবাদ শুরু করেন। সভাকক্ষে উত্তেজনা বাড়লে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বক্তব্য দেওয়ার মাঝপথেই মন্ত্রীকে থামিয়ে দেন এবং করুণানিধিকে সেভাবে সম্বোধন করা অনুচিত বলে স্বীকার করে নেন। তার এই আগাম ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে তাৎক্ষণিক হট্টগোল শেষ হয় এবং বিধানসভার বিতর্ক আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসে।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান আবারও ভারতের অংশ হবে: রামদেব
নেপাল সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতের সেনাপ্রধান







