ভারতের সিকিম রাজ্যের গিয়ালশিং জেলার একটি গ্রামে ভারী বর্ষণের ফলে বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কিছু বাড়িঘর ও সরকারি কোয়ার্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে সিকিমের রিম্বি গ্রামে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের ঢালের মাটি দুর্বল হয়ে পড়ায় বড় ধরনের ধসের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক বাড়ি সরাসরি ভূমিধসের মুখে থাকায় বাসিন্দারা তাদের জরুরি মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর’ হিসেবে অভিহিত করে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবারের আবহাওয়া পূর্বাভাসে রাজ্যে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ভূমিধসের কারণে আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং বলেন, গিয়ালশিং জেলার রিম্বির পরিস্থিতি নিয়ে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি এখনও গুরুতর রয়েছে এবং মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ) গ্যাংটকে বৃষ্টিজনিত ঘটনার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারনের কাজ শুরু করেছে। বিধায়ক শেরিং টি ভুটিয়ার নেতৃত্বে একটি বহু-সংস্থাভিত্তিক দল বুধবার ও বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছে।
পরিদর্শনকৃত এলাকার মধ্যে রয়েছে- লুইং-রঙ্কা হাইওয়ে, লোয়ার বোগোহারি, লিন্ডিং, হাই কোর্ট রোড, টিএনএ গেট, ভিআইপি কলোনি, পাংথাং-লিংডক রোড, রঙ্কা এবং সিকির বিভিন্ন অংশ। ভূমিধসের কারণে বেশ কিছু সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং সিচেয়ের স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টসহ বেশ কিছু সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি প্রবেশ রোধ করতে টারপলিন টানানো হয়েছে। জেলা কালেক্টর ও ডিডিএমএ চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে রাস্তা ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি জনসাধারণকে ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে এবং বিশেষ করে রাতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প
ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীতেও কড়াকড়ি