দিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া জোটের’সাম্প্রতিক সমাবেশে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে প্রায় ২০০ নেতাকর্মীকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ভারতীয় যুব কংগ্রেস। কঠোর এই শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থার আওতায় অন্তত ১৮৫ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাদের অনুপস্থিতির কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, এই অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পরিধি শেষ পর্যন্ত ৫০০ জনে গিয়ে ঠেকতে পারে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
এনডিটিভির দেখা বরখাস্তের চিঠিগুলোতে এই তথ্য উঠে এসেছে। তবে দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার পরও মাত্র একটি ইভেন্টে উপস্থিত না থাকার কারণে এমন শাস্তিমূলক পদক্ষেপে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন বহিষ্কৃত নেতাকর্মী।
যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রোহিত রাজৌরিয়াকে কোনও ধরনের সুযোগ না দিয়েই তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এনডিভিকে তিনি বলেন, ‘আমার চাচার শেষকৃত্য ছিল, তাই ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে যাওয়া হয়নি। আমরা দলের জন্য মামলার মুখোমুখি হয়েছি, জেলে গেছি। শুধু একটা সমাবেশে অনুপস্থিত থাকার কারণে কি আমাদের সরিয়ে দেওয়া হলো?’ ১৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে দলের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ১৫টি মামলার শিকার হওয়া এবং তিন-চারবার কারাবাস করার পরও যুব কংগ্রেসের এমন খেয়ালখুশি মাফিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়ে যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্বশীল পদে থেকে যারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন, তাদের সরিয়ে যোগ্য ও পরিশ্রমী কর্মীদের স্থলাভিষিক্ত করা হচ্ছে। দেশে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে উল্লেখ করে বলা হয়, ভবিষ্যতে দিল্লিতে ৫০ হাজার লোক সমাগমের লক্ষ্য রয়েছে, যার জন্য সক্রিয় নেতৃত্বের প্রয়োজন।
এই কড়াকড়ির প্রভাব এবার মূল কংগ্রেস দলেও পড়তে চলেছে। দলের ওয়ার রুম থেকে মূল নেতাদের উপস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে এবং নতুন নেতা খোঁজার জন্য চালু হওয়া কর্মসূচির আওতায় নিয়োজিত জেলা সভাপতিদের কাছ থেকেও ফিডব্যাক নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কংগ্রেসের জনবল সংগ্রহের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র বলেন, রামলীলা ময়দানের ৪০ শতাংশ জায়গাই ফাঁকা ছিল। রাহুল গান্ধী ও তার দল ১০ লাখ মানুষের সমাগমের দাবি করলেও ২৮ হাজার চেয়ারের মধ্যে ৫ থেকে ৭ হাজার চেয়ারই খালি পড়েছিল।
বিরোধী জোটের সমাবেশে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদব এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহর মতো শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী। ওই সমাবেশে তিনি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও ভোটার তালিকা দিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন।
কংগ্রেস হারানোর পর ট্রাম্পের দলে কি শুরু হচ্ছে ক্ষমতার লড়াই?