প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আজ (শুক্রবার) হিরোশিমায় পা রাখবেন বারাক ওবামা। ওবে আগেই মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের জন্য ক্ষমা চাইবেন না তিনি। ওবামা জানিয়েছেন, পরমাণু যুদ্ধের বিপদ ও শান্তির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার কথাই তুলে ধরবেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জাপানের ইসেশিমায় জি-সেভেন সম্মেলনের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের ওবামা বলেন, ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়া একটি মুহূর্ত। এটা এমন একটা বিষয়, কোনও না কোনওভাবে যার মুখোমুখি আমাদের সবাইকেই দাঁড়াতে হবে।’
বিশ্বের প্রথম পরমাণু বোমা বিস্ফোরণস্থলে গিয়ে ইতিহাসের সেই মুহূর্তটার মুখোমুখি হওয়াটা ওবামার জন্য অনেকটাই ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন, কোল্ড ওয়ারের সময় পরমাণু বিস্ফোরণের বিষয়টি মানুষের মনে যতটা সজীব ছিল, এখন আর তা নেই। কিন্তু পরমাণু যুদ্ধের বিপদ আর প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি বলেও মনে করেন তিনি।
ওবামা বলেন, ‘পরমাণু হামলার প্রেক্ষাপটটা আমাদের মনের পিছন দিকে হলেও রয়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে বাস্তব বিপদ এবং সেটা এড়ানোর জন্য আমাদের যে মরিয়া চেষ্টা করা উচিত, সেটাই আমি আরও এক বার তুলে ধরতে চাই।’
হিরোশিমায় পরমাণু বোমার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে নিহতদের স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ধ্বংসের সেই অতীতের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গম্বুজওয়ালা বাড়িটির অবশিষ্ট ভাঙা কাঠানোর সামনে দাঁড়িয়েই তিনি কিছু বলবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ওবামা নিজে এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও বার বার বলা হয়েছে, এই হিরোশিমা সফরকে আমেরিকার তরফে দুঃখপ্রকাশ বলে যেন ব্যাখ্যা করা না হয়। জাপানের মানুষের একটা অংশের দাবি সত্ত্বেও ওবামা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ‘ক্ষমা চাওয়া’র প্রশ্ন নেই। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আমেরিকা -জাপান ‘অসাধারণ মিত্রতা’-কে তুলে ধরাই এই সফরের উদ্দেশ্য।
প্রসঙ্গত , হিরোশিমায় শুক্রবার ওবামার সঙ্গী হবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। জাপানের জাতীয় চ্যানেল এনএইচকে বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, পরমাণু বিস্ফোরণের পর যেসব মানুষ এখনও বেঁচে আছেন, তাদের কয়েক জনের সঙ্গেও দেখা করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হিরোশিমায় বক্তব্যে ওবামা কী বলবেন তা শোনার জন্য অপেক্ষায় আছে সারা বিশ্ব। তার প্রতিটি শব্দ এবং বাচনভঙ্গির কূটনৈতিক ব্যাখ্যা করা হবে। এক দিকে যে পরমাণুমুক্ত বিশ্বের কথা, যুদ্ধবিরোধিতার কথা তিনি প্রথম থেকে বলে এসেছেন, তার প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রাখা। অন্য দিকে কোনওভাবেই যেন তার কথায় অনুতাপের সুর ফুটে না ওঠে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে তাকে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এএ/








