ইয়েমেনে যুদ্ধ অর্থনীতির সংকটে হুমকিতে লাখো শিশুর ভবিষ্যৎ

বিদেশ ডেস্ক
১৭ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:২২আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:৩৮

ইয়েমেনের যুদ্ধে শিশুদের সামরিক কর্মকাণ্ডে লাগানো হচ্ছে দুই বছরের যুদ্ধে ইয়েমেনের শিশুদের পুরো একটি প্রজন্মকে শিক্ষা বঞ্চিত করছে। হুমকির মুখে পড়েছে তাদের ভবিষ্যৎ। চলমান এ যুদ্ধ শিশুদের অল্প বয়সে বিয়ে এবং শিশুসেনা হওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এ তথ্য জানিয়েছে।

রাজধানীয় এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়েমেনে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি মার্টিক্সেল রেলানো জানান, দেশটির শিক্ষকদের কয়েক মাসের বেতন অপরিশোধিত রয়েছে। গত বছর প্রায় ৪৫ লাখ শিশু তাদের শিক্ষা শেষ করেনি।

রেলানো বলেন, এই মুহূর্তে ১ লাখ ৬৬ হাজার শিক্ষক রয়েছেন ইয়েমেন যারা গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে কোনও বেতন পাননি। বেতন না পাওয়া শিক্ষকদের সংখ্যা দেশটির মোট শিক্ষকদের ৭৩ শতাংশ।

রেলানো আরও বলেন, শিশুরা এখন আর স্কুলে যাচ্ছে না। এসব শিশুদের সামরিক কাজে নিযুক্ত করা বা মেয়েদের বাল্যবিবাহের হুমকির মুখে রয়েছে।

এ সংকটের শুরু হয় গত বছর। ওই সময় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজধানী সানা থেকে সরিয়ে নেয়। সানা এখন হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার বলছে, হুথি বিদ্রোহীরা ব্যাংকগুলো লুট করেছে। হুথি বিদ্রোহীদের হুমকির পরও তারা বেতন পরিশোধের চেষ্টা করছে। হুথি বিদ্রোহীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

হুথি নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলে সরকারি কর্মকর্তাদের সাত মাসের বেতন অপরিশোধিত রয়েছে। এর ফলে এসব কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের কাজে যোগদান ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সানায় অবস্থিত শিশুদের একটি স্কুলের শিক্ষক হুদা আল খৌলানি বলেন, অর্থ জীবনের মেরুদণ্ড এখন। অর্থ ছাড়া কেউ বাঁচতে পারবে বলে আমি মনে করি না। অর্থ ছাড়া দুর্ভোগে পড়তে হয়। আমরা প্রায় ভিক্ষা করার কাতারে চলে যাচ্ছি।

এর আগে ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী জেমি ম্যাক গোল্ডরিক জানান, মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্যগত সহায়তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২১০ কোটি ডলার প্রয়োজন। যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী স্টিফেন ও’ব্রায়ান বলেন, ‘চলমান অবস্থার উত্তরনে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ না নিলে, ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে দেশটি।’ গত ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জরুরি ভিত্তিতে ১ কোটি ৯০ লাখ নাগরিকের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি। অর্ধেকেরও বেশি মানুষের চিকিৎসা সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে।

মার্কিন সমর্থিত অবরোধের কারণে খাদ্য ও মৌলিক পণ্যের বেচাকেনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুরু হয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের অভিযানের মুখে ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ সামাজিক স্থাপনা। সবমিলিয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় দিন কাটছে ইয়েমেনবাসীর। জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জেন এজিল্যান্ড বলেন, ‘বোমা হামলা মানুষকে যদি নাও মেরে ফেলে, অনাহারের কারণে ধীরে ধীরে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু এখন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইয়েমেনে।’ সূত্র: রয়টার্স।

/এএ/

 

সম্পর্কিত
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
সর্বশেষ খবর
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান