সিরীয় যুদ্ধে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারকে সহযোগিতার জন্য বেপরোয়া তুর্কিপন্থী বিদ্রোহী যোদ্ধা আবু আহমদ আজারবাইজানে মোতায়েনে অপেক্ষায় রয়েছেন। আজেরিদের পক্ষে লড়াই করলে তিনি বর্তমান মজুরির চেয়ে ৮০ গুণ বেশি উপার্জন করবেন।
নিরাপত্তার জন্য ছদ্মনামে ২৬ বছরের এই ব্যক্তি ফোন মেসেজিং সেবায় বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এক সপ্তাহ আগে আজারবাইজানে লড়াইয়ে যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছি। মাসে ২ হাজার ডলারের বিনিময় তিন মাস সেখানে লড়াই করব।
আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে রবিবার থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ১৯৯০ দশকের যুদ্ধে আর্মেনীয় জাতিগোষ্ঠী আজারবাইজানের কাছ থেকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এবারের সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করে আসছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন নিহতের কথা জানা গেছে। নব্বই দশকের সর্বাত্মক যুদ্ধের পর এটিই উভয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ।
সংঘাতে তুরস্ক দীর্ঘদিনের মিত্র আজারবাইজানকে সমর্থন করছে। আঙ্কারার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আজারবাইজানের শক্তি বাড়াতে তুর্কিপন্থী সিরীয় ভাড়াটে যোদ্ধাদের পাঠানো হচ্ছে। আজেরিরা অস্বীকার করলেও ফ্রান্স এই অভিযোগকে সমর্থন জানাচ্ছে।
সিরিয়ার আলেপ্পো ও ইদলিবের কয়েকজন সিরীয়বিরোধী যোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। তারা জানিয়েছেন, ককেসাস অঞ্চলে যাওয়ার জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং একজন ইতোমধ্যে সংঘাতস্থলে পৌঁছে গেছেন।
তুর্কি সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীদের একটি শিবিরে থাকা আবু আহমদ এএফপিকে বলেছেন, তিনি কারাবাখ অঞ্চলে যাচ্ছেন নিজের স্ত্রী ও সন্তানের জন্য আরও ভালো ব্যবস্থা করতে। তিনি বলেন, আমরা নিজেদের গ্রাম ও বাড়ি হারিয়েছে। এখন আমাদের খাওয়ার মতো কিছু নেই।
গত পাঁচ বছর ধরে বিদ্রোহী যোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা রাখা এই ব্যক্তি আরও বলেন, আজারবাইজানে যাওয়ার পালা আসার অপেক্ষায় রয়েছি। সেখানে গেলে কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে পারবো। সেখান থেকে ফিরে এসে কিছু ব্যবসা শুরু করবো।
আবু আহমদ ও তার পরিবার এই বছরের শুরুতে রাশিয়ার সমর্থনে সিরীয় সরকারের সামরিক অভিযানে নিজেদের ঘরবাড়ি রেখে পালিয়ে আলেপ্পোতে আসেন। মার্চে যুদ্ধবিরতির পর তার উপার্জন কমে গেছে। গত মাসে তার বিদ্রোহীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে মাত্র ২০০ তুর্কিশ লিরা (২৫ ডলার) পেয়েছেন। যা পরিবারের ভরণপোষণ মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
নাগোরনো-কারাবাখে সিরীয়দের নিহতের কথা শুনে আবু আহমদ ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছেন। তবু তিনি বলেন, আমাদের সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই। আমরা এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছে গেছি যে, সন্তানের খাবার জোগাড় করতে নিজেদের বলি দিতেও আমরা প্রস্তুত।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ৮৫০ জন সিরীয় যোদ্ধা তুরস্ক হয়ে আজারবাইজান পৌঁছেছে। যাওয়ার জন্য আরও কয়েকশ’ প্রস্তুত। তুরস্কপন্থী এই যোদ্ধাদের ১৫০০ থেকে ২ হাজার ডলার মাসিক মজুরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সংঘাত শুরুর আগেই সিরীয় যোদ্ধাদের একটি দল আজারবাইজান পৌঁছায়। সেখানে তারা তেলক্ষেত্র পাহারায় নিযুক্ত হয়।
আলেপ্পো প্রদেশের আটারেভ শহরের এক সিরীয় যোদ্ধা এএফপিকে জানিয়েছেন, সংঘাতের সম্মুখে তিনি রয়েছেন। তিনি খুদে বার্তায় বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি আজারবাইজানে রয়েছি’। এর বেশি কিছু জানাননি। তার শহরের একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি যে ইউনিটে রয়েছেন সেটির কমান্ডার মোহাম্মদ শাবান নিহত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চার সিরীয় যোদ্ধার যে ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের একজন এই নিহত শাবান।
অবজারভেটরি প্রধান রামি আবদেল রহমান জানিয়েছেন, রবিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮ সিরীয় যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তিন যোদ্ধার স্বজনরা মৃত্যুর বিষয়টি এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সিরীয় যোদ্ধাদের জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারকে শক্তিশালী করতে লিবিয়ায় পাঠানোর কথা স্বীকার করেছিল তুরস্ক। তবে আজারবাইজানে সিরীয় ভাড়াটে যোদ্ধাদের পাঠানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি দেশটি।








