ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলা প্রতিহতের দাবি করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। রবিবার এক বিবৃতিতে এমন দাবি করেছেন সৌদি জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল মালকি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
কর্নেল তুর্কি আল মালকি বলেন, রবিবার হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দেশে একটি সামরিক ড্রোন পাঠায়। তবে ওই হামলা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে এবং ড্রোনটি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালাতেই ড্রোনটি পাঠানো হয়েছিল এবং এর ভেতরে বোমা রাখা ছিল।
এমন সময়ে রিয়াদের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলা নস্যাতের দাবি করা হলো যার কদিন আগেই ইয়েমেনে সৌদি অভিযানকে আর সমর্থন না করার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
বাইডেন সাফ জানিয়ে দেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের যুদ্ধকে আর সমর্থন করবে না যুক্তরাষ্ট্র। বরং চলমান সংকট নিরসনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজা হবে। তার ভাষায়, ‘আমেরিকা ফিরে এসেছে, কূটনীতিও ফিরে এসেছে।’
ইয়েমেনে সৌদি আরবের যুদ্ধে মার্কিন সমর্থন বন্ধের বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রথমে বিবৃতি দেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সালিভান। পরে নিজের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বক্তৃতায় বাইডেন নিজেই বিস্তারিত জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনওভাবেই আর সৌদি আরবকে যুদ্ধে সহযোগিতা করা হবে না। বরং ইয়েমেনে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের রাস্তা খোঁজা হবে। তবে এতে করে রিয়াদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের কোনও পরিবর্তন হবে না। শুধু যুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবে ওয়াশিংটন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী সানা দখলে নেয় দেশটির ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন ক্ষমতাচ্যুত হাদি। হুথিরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামের সামরিক আগ্রাসন শুরু করে সৌদি-আমিরাতের সামরিক জোট। সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত হয় লক্ষাধিক বেসামরিক মানুষ। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায় ইয়েমেন। এ আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশেষ করে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে রিয়াদ।









