ইসরায়েলি নাগরিকদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন লেবাননের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ডেপুটি প্রধান নাঈম কাসেম। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) তিনি বলেছেন, চলমান যুদ্ধের একমাত্র সমাধান হলো যুদ্ধবিরতি। চুক্তি হলে উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি হবে। হিজবুল্লাহকে পরাজিত করা যাবে না। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলের সাবেক নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হওয়ার পর এটি ছিল নাঈম কাসেমের তৃতীয় ভাষণ। তিনি বলেন, আমি ইসরায়েলের জনগণকে বলছি, সমাধান হলো যুদ্ধবিরতি। এটি দুর্বলতার জায়গা থেকে বলা হচ্ছে না। ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতি না চায়, তাহলে আমরাও থামবো না। প্রতিরোধের (হিজবুল্লাহ) পরাজয় হবে না, কারণ এটি আমাদের নিজেদের ভূমি।
কাসেম বলেছেন, পরোক্ষ চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির পর উত্তর ইসরায়েলের অধিবাসীরা ফিরে আসবে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নির্ধারণ করা হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েল যদি পুরো লেবাননে হামলা চালায়, তাহলে আমাদেরও প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে ইসরায়েলের যেকোনও স্থানে আঘাত হানার অধিকার রয়েছে। মধ্যাঞ্চল, উত্তর বা দক্ষিণ, আমরা হামলার উপযুক্ত জায়গাটি বেছে নেবো।
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আন্তসীমান্ত গোলাগুলি গত ২৩ সেপ্টেম্বর যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েল দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের হিজবুল্লাহ ঘাঁটি ও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। পরে ইসরায়েল জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করেছে এবং সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লড়াই চলছে। ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী বারবার বলছে, তারা ইসরায়েলি অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা প্রতিহত করছে।
পূর্বে রেকর্ড করা ভিডিওতে কাসেমকে একটি ডেস্কে বসা অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওতে লেবানন ও হিজবুল্লাহর ছোট পতাকা এবং নাসরাল্লাহর একটি ফ্রেমবদ্ধ ছবি রয়েছে। আগের দুটি ভাষণের ভিডিও অন্ধকারে ধারণ করা হয়েছিল।
কাসেম বলেছেন, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের হাইফা অঞ্চলে বারবার আক্রমণ চালিয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে ইসরায়েলের জনশূন্য শহরের সংখ্যা বাড়তে থাকবে। বিশ লাখেরও বেশি মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে থাকবে।









