গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তিন ইসরায়েলি নারী জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। গাজা সিটির ভেতর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে রেড ক্রসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে জিম্মিরা ইসরায়েল পৌঁছান। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার সকালে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা পূর্বনির্ধারিত সময়ের তিন ঘণ্টা পরে শুরু হয়। প্রথম দফায় ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে। যাদের মধ্যে ৩১ জনকে গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় আটক করা হয়েছিল। বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ১ হাজার ৯০০ ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তি দেবে।
যুদ্ধবিরতি শুরুর পরপরই রেড ক্রস জানায়, মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মিদের ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে জাতিসংঘ জানায়, ত্রাণবাহী ট্রাক গাজার দিকে প্রবেশ করেছে। কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং মিসরের মধ্যস্থতায় চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়।
গাজার জাবালিয়া এলাকায় ফিরে আসা বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ির মাঝে নিজেদের থাকার ব্যবস্থা করতে শুরু করেছেন। এক বাসিন্দা আহমদ আল-বালাউই এএফপিকে বলেন, ফিরে এসে শক পেয়েছি। পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই যুদ্ধবিরতিকে ‘অস্থায়ী’ বলে অভিহিত করেছেন এবং প্রয়োজনে যুদ্ধ ফের শুরু করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
মিসর জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর প্রতিদিন ৬০০টি ট্রাক গাজায় ত্রাণ পৌঁছাবে। এর মধ্যে ৫০টি ট্রাকে জ্বালানি থাকবে। যুদ্ধের ফলে গাজার জনসংখ্যার বেশিরভাগই বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং শহরের উত্তরাংশে ধ্বংসযজ্ঞ চরমে পৌঁছেছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলের ১ হাজার ২১০ জন নিহত হন, যার অধিকাংশই বেসামরিক। ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় গাজায় ৪৬ হাজার ৯১৩ জন নিহত হয়েছে বলে হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।









