যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর একটিতে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ এখনও ভূগর্ভে রয়ে গেছে এবং তা পুনরুদ্ধার সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করছে ইসরায়েল। তবে সেই চেষ্টা ধরা পড়লেই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ফের হামলা চালানো হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে নাম প্রকাশ না করা শীর্ষ এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ইস্পাহানে থাকা ইউরেনিয়াম মজুদের একটি অংশ মাটির নিচে সুরক্ষিত ছিল। সেখানে পৌঁছানো খুবই কঠিন। ইরান যদি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে, তবে সেটা গোয়েন্দা নজরদারিতে ধরা পড়বে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ২২ জুনের অপারেশন মিডনাইট হ্যামার অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দুই বছর পিছিয়ে গেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার নেতৃত্বে বিশ্ব এখন আরও নিরাপদ।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি বিবিসিকে বলেছেন, অপারেশন মিডনাইট হ্যামার ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে নিশ্চিহ্ন করেছে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন কিছুটা সতর্ক। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) এক প্রাথমিক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ফরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ জুনের শেষ দিকে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরানের একমাত্র ইউরেনিয়াম ধাতু উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ায় দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কার্যত বিলুপ্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, তিনটি স্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ মাত্রায় ধ্বংস হয়েছে। তবে কিছু অংশ এখনও টিকে আছে। সব কিছু মুছে গেছে তা বলা যায় না ।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এখন সেখানে কোনও ধরনের প্রবেশাধিকার পাইনি। ফলে পূর্ণ মূল্যায়ন সম্ভব নয়।
ইরান অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।








