দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস ও রাফাহর কাছে দুটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের আশপাশে খাবারের খোঁজে আসা অন্তত ৩৬ ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। গাজার হামাস-চালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার (১৯ জুলাই) ভোরে একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে যাওয়ার পথে ইসরায়েলি গুলিতে অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। এই দুটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র পরিচালনা করে বিতর্কিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
জিএইচএফ দাবি করেছে, তাদের কেন্দ্রের আশপাশে কোনও ঘটনা ঘটেনি। তবে তাদের বিতরণকেন্দ্র খোলার আগে ইসরায়েলি বাহিনী এলাকাটিতে সক্রিয় ছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সেনাদের দিকে এগিয়ে আসায় গুলি ছোড়ে। লোকগুলো থামার আহ্বানে সাড়া দেয়নি বলে দাবি করেছে তারা। ঘটনাস্থলটি একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ছিল এবং তখন কেন্দ্রটি চালু ছিল না।
রয়টার্সকে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে বলা হয়, ইসরায়েলি গুলি ‘হত্যার উদ্দেশ্যেই’ চালানো হয়েছিল।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার সকালে খান ইউনুসের নাসের হাসপাতালে বেশ কিছু মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।
জিএইচএফ মে মাসের শেষদিকে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই ত্রাণের জন্য ভিড় করা ফিলিস্তিনিদের গুলি করে হত্যা করার খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বিবিসিকে জানিয়েছে, সর্বশেষ ঘটনায় ‘সন্দেহভাজনদের’ দূরে রাখতে তারা সতর্কতামূলক গুলি চালিয়েছিল এবং ঘটনাটি সাহায্যকেন্দ্র খোলার আগেই ঘটেছে।
মোহাম্মদ আল-খালিদি রয়টার্সকে জানান, তিনি ফিলিস্তিনিদের একটি দলের সঙ্গে ছিলেন, যারা শুনেছিলেন জিএইচএফ ত্রাণকেন্দ্রটি খোলা রয়েছে। কিন্তু তারা পৌঁছানোর পর ট্যাংক তাদের দিকে এগিয়ে এসে গুলি চালায়।
তিনি বলেন, ‘এই গুলি আমাদের ভয় দেখাতে বা ছড়িয়ে দিতে চালানো হয়নি, এটা হত্যার জন্য চালানো হয়েছিল। তারা যদি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাইত, পারত। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের হত্যা করা।’
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ১৫ জুলাই জানিয়েছে, গত ছয় সপ্তাহে দক্ষিণ ও মধ্য গাজার জিএইচএফ পরিচালিত চারটি কেন্দ্রের আশপাশে ৬৭৪ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থার ত্রাণ বহরের রুটেও আরও ২০১ জন নিহতের খবর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, মার্চ থেকে ইসরায়েল খাদ্য প্রবেশ সীমিত করার পর গাজায় মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
এদিকে শুক্রবার আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তি খুব কাছাকাছি। তবে এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, আলোচনা এখনও স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েল যে সর্বশেষ সেনা প্রত্যাহারের মানচিত্র দিয়েছে, তা হামাসের কাছে এখনও গ্রহণযোগ্য নয়।









