গাজা যুদ্ধ শেষ করতে ও জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে ইসরায়েলে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ আগস্ট ২০২৫, ২০:২৫আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ২২:৪৯

গাজা যুদ্ধের অবসান ও সেখানে জিম্মি করে রাখা ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি করতে রাস্তায় নেমেছেন ইসরায়েলের হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। শনিবার (১৬ আগস্ট) বন্দি পরিবারের কিছু প্রতিনিধিত্বকারী দুটি সংগঠনের উদ্যোগে জাতীয় কর্ম দিবসের অংশ হিসেবে প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। এর জেরে ইসরায়েলের স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলিদের দাবি এমন সময়ে এলো যখন সেনাবাহিনী গাজা শহরের ওপর হামলা তীব্র করছে, যাতে হাজার হাজার ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিকে আবারও স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করা যায়।

বিক্ষোভকারীরা আশঙ্কা করছেন যে আরও লড়াই ৫০ জিম্মির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে মাত্র ২০ জন জীবিত রয়েছে।

তেল আবিবের তথাকথিত ‘হোস্টেজ স্কয়ারে’ আয়োজিত বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীরা নানা স্লোগান দেন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে সাবেক জিম্মি আরবেল ইয়েহৌদ বলেছেন, ‘সামরিক চাপ বন্দিদের ফিরিয়ে আনে না– এটি কেবল তাদের হত্যা করে।’ ‘তাদের ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় হলো চুক্তির মাধ্যমে, একবারে, কোনও খেলা ছাড়াই।’

বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ডে ‘আমরা বন্দিদের মৃতদেহের ওপর যুদ্ধ জিতি না’ স্লোগানও লেখা ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, সারা দেশে বিক্ষোভের অংশ হিসেবে তারা ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে। গত সেপ্টেম্বরে গাজায় ছয় জিম্মির মৃতদেহ পাওয়ার পর থেকে সবচেয়ে তীব্র বিক্ষোভগুলোর মধ্যে একটি।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহরে দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এর অল্প কিছু দিন পর, রবিবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।

প্রায় দুই বছর ধরে চলা গণহত্যামূলক যুদ্ধে এই এলাকা ধ্বংস হয়েছে, এর অধিকাংশ জনসংখ্যা ক্ষুধার মুখে পড়েছে এবং ইসরায়েল ক্রমশ আন্তর্জাতিকভাবে একাকী হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভ গাজার সীমান্তর্ব্তী বিয়েরিসহ অন্যান্য এলাকায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধান সড়কগুলোও অবরুদ্ধ করেছেন।

জেরুজালেমে এক বিক্ষোভকারী ৫৪ বছর বয়সী ট্যুর গাইড ডোরন উইলফান্ড এএফপিকে বলেন, ‘এখন যুদ্ধ শেষ করার সময়। এখন সব বন্দি মুক্ত করার সময়। এবং এখন ইসরায়েলকে পুনরুদ্ধার করতে ও আরও স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে এগিয়ে যাওয়ার সময়।’

রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হার্জোগ বন্দিদের প্রত্যাবর্তনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন, হামাসের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান উপেক্ষা করেছেন।

কিন্তু সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তারা বিক্ষোভের  কঠোর সমালোচনা করেছেন।

পুলিশ সারা দেশে তাদের উপস্থিতি শক্তিশালী করেছে এবং সতর্ক করেছে যেকোনও ‘সর্বজনীন শৃঙ্খলা বিঘ্ন’ সহ্য করা হবে না।

/এস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
সর্বশেষ খবর
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী