গাজা সিটিতে আরেকটি বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দিলো ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:১৩আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:১৩

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) গাজা সিটিতে আরও একটি বহুতল ভবন ধ্বংস করেছে। টানা দুই দিনে দ্বিতীয়বারের মতো উঁচু ভবন গুঁড়িয়ে দিলো তারা। শনিবার সুশি টাওয়ার ধসে পড়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর জানা যায়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমরা এগিয়ে যাচ্ছি’। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ভবনটি হামাস ব্যবহার করছিল। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি।

এর আগে ইসরায়েলি বিমান থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট ছড়িয়ে বাসিন্দাদের দক্ষিণে আল-মাওয়াসিতে চলে যেতে বলা হয়। আইডিএফের আরবি মুখপাত্র আভিখাই আদ্রেয়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, হাজারো মানুষ ইতোমধ্যে সেখানে গেছে, আরও অনেকে যোগ দিতে পারে।

ইসরায়েল দাবি করেছে, ওই এলাকায় চিকিৎসা, পানি ও খাদ্যের ব্যবস্থা থাকবে। জাতিসংঘ অবশ্য বলছে, আল-মাওয়াসির তাঁবু শিবিরগুলোতে ভিড় অসহনীয়, অবকাঠামো অরক্ষিত এবং হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ চরমে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার সেখানেই পানির জন্য লাইনে দাঁড়ানো পাঁচ শিশু ড্রোন হামলায় নিহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ হামলা চালায় ইসরায়েল। আইডিএফ বলেছে, ঘটনাটি পর্যালোচনাধীন।

শুক্রবার গাজা সিটির আল-রিমাল এলাকায় মুস্তাহা টাওয়ারও ধ্বংস করা হয়। ওই ভবনে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবার ছিল বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েল জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার নীতি অনুসরণ করছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, গত এক মাসে গাজা সিটির বহু পাড়া মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক টাওয়ারগুলো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ও গাজার আধুনিক ইতিহাসের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির পর নির্বাসন থেকে হাজারো ফিলিস্তিনি ফিরে আসায় বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে আলোচনার ভেস্তে যাওয়ার পর ইসরায়েল গাজা উপত্যকার পুরো নিয়ন্ত্রণ নেবে। জাতিসংঘ অনুমান করছে, এখনও প্রায় ১০ লাখ মানুষ গাজা সিটিতে রয়েছেন। সংস্থাটি গত মাসে সেখানে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে এবং সতর্ক করেছে আসন্ন বিপর্যয় নিয়ে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন জিম্মি হন। এরপর থেকেই গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৭৪৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া অপুষ্টি ও অনাহারে ৩৬৭ জনের মৃত্যুর কথাও জানিয়েছে তারা।

 

/এএ/
সম্পর্কিত
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে