ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না। রবিবার দেওয়া রায়ে তিন সদস্যের বেঞ্চ বলেছে, বন্দিদের ন্যূনতম জীবিকা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট পুষ্টি সরবরাহ করতে সরকার আইনগতভাবে বাধ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, খাদ্য নীতির পরিবর্তনের কারণে বন্দিরা অপুষ্টি ও অনাহারে ভুগছেন। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস মামলাটি করেছিল। রায়ের পর তারা বলেছে, এই রায় অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির অবশ্য আদালতের রায়ের সমালোচনা করেছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, গাজায় ইসরায়েলি জিম্মিদের রক্ষা করার কোনও সুপ্রিম কোর্ট নেই। আমি আইনে অনুমোদিত ন্যূনতম শর্তই বন্দি সন্ত্রাসীদের জন্য প্রয়োগ করব।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার রাতে হামাসকে সতর্ক করে বলেছেন, জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে প্রস্তাব গ্রহণের এটিই ‘শেষ সুযোগ’। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েল তার শর্ত মেনে নিয়েছে, এবার হামাসেরও মানতে হবে।
হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের কিছু ধারণা বিবেচনা করছে এবং অবিলম্বে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। বর্তমানে গাজায় ৪৮ জন জিম্মি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৩৬৮-এ। জাতিসংঘ এ সংখ্যাকে নির্ভরযোগ্য মনে করে, যদিও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে।
রবিবার গাজা সিটিতে আল-রোয়া নামে একটি বহুতল ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। তিন দিনের ব্যবধানে এ নিয়ে তিনটি ভবন ধ্বংস হলো। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ভবনটিতে হামাসের গোয়েন্দা সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক রাখা ছিল। তবে ফিলিস্তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ আখ্যা দিয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এরপর থেকে ইসরায়েল ব্যাপক প্রতিশোধ অভিযান শুরু করে। এতে গাজায় প্রাণহানি ছাড়াও মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানালেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা সিটিতে অভিযান আরও জোরদার হবে। ইসরায়েলে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তির জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির দাবি জানালেও নেতানিয়াহু এখনও ‘সম্পূর্ণ বিজয়ের’ নীতিতেই অনড় রয়েছেন।








